ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌর পুরাতন মোটরসাইকেল হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের পুলিশি হয়রানি, মামলা ও জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছে। গাড়ি চেকিংয়ের নামে হয়রানি এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হাটের ইজারাদারদের পক্ষ থেকে তৌফিফক খান। এ পরিস্থিতির অবসান না হলে স্থানীয় সুধী সমাজ, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তৌফিক খান বলেন, আলমডাঙ্গা পৌর পুরাতন মোটরসাইকেল হাট শুধু চুয়াডাঙ্গা জেলাতেই নয়, সারা দেশে একটি পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী হাট। প্রায় ১৫ বছর ধরে চালু থাকা এ হাটে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা পুরাতন মোটরসাইকেল কেনাবেচা করতে আসেন। এ হাটকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অনেক মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকার ব্যবস্থা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলা ১৪৩৩ সনের জন্য আলমডাঙ্গা পৌরসভা হাটটির ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে ১৪ থেকে ১৫ জন ব্যবসায়ী দরপত্রে অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তিনি ভ্যাট ও আয়করসহ ২ কোটি ৭ লাখ ৫৬ হাজার ২৫০ টাকায় হাটটি ইজারা নেন। যা বিগত সরকারের সময়ের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে পুলিশ প্রশাসন নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেল চেকিংয়ের নামে হাটের প্রধান ফটকের দুই পাশে এবং আলমডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে অভিযান চালাচ্ছে। এ সময় হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে মামলা, জরিমানা এবং মোটরসাইকেল আটক করা হচ্ছে। এতে তাঁরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং হাটের স্বাভাবিক কেনাবেচা ব্যাহত হচ্ছে।
তৌফিক খান আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁরা জানতে পেরেছেন, হাটে মোটরসাইকেল কেনাবেচা করতে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের পুলিশ ভয়-ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে এবং হাটে না আসতে নিরুৎসাহিত করছে। এমনকি হাটে আসার নির্ধারিত সময় পর্যন্ত গাড়ি চেকিং জোরদার থাকলেও সেই সময় পার হলে পুলিশের তৎপরতা কমে যায়। এতে হাটের ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, পুলিশের আইনানুগ দায়িত্ব পালনে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। তবে আইন প্রয়োগের নামে একটি ঐতিহ্যবাহী ব্যবসাকেন্দ্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের হয়রানি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। হাটটি বন্ধ হয়ে গেলে বহু মানুষ কর্মসংস্থান হারাবেন। পাশাপাশি সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ পরিস্থিতির অবসান না হলে আলমডাঙ্গার সুধী সমাজ, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহ্যবাহী এ হাট রক্ষায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রী, চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আক্তার হোসেন জোয়ার্দ্দার, পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিণ্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সাবেক পৌর কমিশনার নাসির উদ্দিনসহ হাটের ইজারাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
