ছবির ক্যাপশন:
অভিযুক্ত গণিত শিক্ষক ইকবাল
দামুড়হুদা উপজেলার কুনিয়া চাঁদপুর সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আবু বক্কর সিদ্দিককে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে একই প্রতিষ্ঠানের গণিত শিক্ষক ইকবালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার শিক্ষকদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হাজিরা খাতা নিজের কক্ষে রাখেন ভারপ্রাপ্ত সুপার আবু বক্কর সিদ্দিক। এসময় গণিত শিক্ষক ইকবাল মাদ্রাসায় এসে হাজিরা খাতা সুপারের কক্ষে দেখতে পেয়ে ক্ষুব্ধ হন। পরে এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সুপারকে গলা ধাক্কা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসায় আবারও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে। পরে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
ভারপ্রাপ্ত সুপার আবু বক্কর সিদ্দিক অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষকদের দেরিতে আসার প্রবণতা ঠেকাতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করে তাঁর অনুমতি নিয়ে হাজিরা খাতা নিজের কক্ষে রেখেছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, হাজিরা খাতা নিয়ে কথা বলতে গেলে শিক্ষক ইকবাল তাঁকে গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে গলা ধাক্কা দিয়ে মারধর করেন। এমনকি মঙ্গলবার মাদ্রাসার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে তাঁকে আবারও মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, শিক্ষক ইকবাল প্রায়ই নির্ধারিত সময়ের পরে মাদ্রাসায় আসতেন। এ-সংক্রান্ত তথ্যও তিনি সংরক্ষণ করে রেখেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন ভারপ্রাপ্ত সুপার।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত গণিত শিক্ষক ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন। এসময় তিনি মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন।
এদিকে, সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
