ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গায় চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অশোভন আচরণ ও অনাকাক্সিক্ষত যৌন স্পর্শের অভিযোগে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী। এর আগে তাঁকে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে আটকে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
গতকাল সোমবার দুপুরে আলমডাঙ্গা উপজেলার বন্দরভিটা আল হেলাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম ইনামুল (৪৫)। তিনি ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ ও অনাকাক্সিক্ষত যৌন স্পর্শের অভিযোগ ওঠে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইনামুলের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিদ্যালয়ে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে একটি শ্রেণিকক্ষে আটকে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন।
খবর পেয়ে গাংনী তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং শ্রেণিকক্ষে আটকে রাখা শিক্ষককে উদ্ধার করেন। এরপর তাঁকে আলমডাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই নানা অভিযোগ থাকার দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁদের অভিযোগ, তিনি নিয়মিত গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করেন। তবে মাদক সেবনের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। তাঁদের ভাষ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হওয়ার কথা। সেখানে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. আলাউদ্দীন বলেন, ‘আজ এই ঘটনার এক দিন আগে একটি গোপন সূত্রে এ বিষয়ে তথ্য পাই আমি। এরপরই তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে দিই। কমিটির প্রধান করা হয়েছে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বখতিয়ার উদ্দীনকে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।
