ছবির ক্যাপশন:
সরকার সাত দফা দাবি মেনে না নিলে নেতাকর্মীদের এক দফার আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভালোয় ভালোয় সাত দফা দাবি না মানলে এক দফার পাথরের নিচে পিষ্ট হতে হবে। গতকাল শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ১১ দলের লংমার্চের পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সাত দফা দাবিতে ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া অভিমুখী এ লংমার্চের পথসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম মো. আবু বকর এমপি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমি কিংবা কর্নেল অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য আসিনি। আমাদের দাবি পরিষ্কার; আমরা সাত দফা দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। আমরা কেন রাস্তায় নেমেছি, তা আপনারা সবাই জানেন। এটা জনগণের দাবি। আমরা রাস্তায় নামতে চাইনি, চেয়েছিলাম সংসদের ভেতরেই এর নিষ্পত্তি হোক। কিন্তু এই সরকার গণভোটের সঙ্গে বেইমানি করেছে। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষকে তারা সম্মান করেনি। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ধানাইপানাই করছে এবং সংসদে আমাদের প্রলোভন দেখাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য সংসদে যাইনি। আমরা ঘোষণা করেছিলাম, সরকারে গেলে দ্রব্যমূল্যের অতিরিক্ত দাম বৃদ্ধি করব না; কিন্তু সরকার সে দাবি মানেনি। আমাদের সন্তানরা বুকের তাজা রক্ত এমনি এমনি দেয়নি। এক দলকে তাড়িয়ে আরেক দলকে গদিতে বসানোর জন্য জনগণ ম্যান্ডেট দেয়নি; তারা সিস্টেম পরিবর্তনের জন্য জীবন দিয়েছে। গণভোট অবৈধ হলে সরকার ও বিরোধী দলও অবৈধ। এই বিশ্বাসঘাতকতা ও জাতির সঙ্গে দ্বিচারিতা আমরা মানব না।”
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জামায়াত আমির বলেন, “সরকারকে এই দাবি মানতেই হবে। আপনারা ভালোয় ভালোয় সাত দফা দাবি না মানলে এক দফার পাথরের নিচে পিষ্ট হবেন। আমরা চাই না দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট হোক। আমরা শান্তির পক্ষে আছি। তবে জনগণকে যদি অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে না। যেকোনো সময় সাত দফা দাবি এক দফায় পরিণত হবে, ইনশাআল্লাহ।”
এর আগে বিকেল থেকেই ঝিনাইদহ শহরের রাস্তার দুই পাশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী কর্মীও ছিলেন। রাতে কালীগঞ্জ মেইন বাসস্ট্যান্ডে জামায়াত আমির পৌঁছালে তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালিব।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন কর্নেল অলি আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, তারেক রেজা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাবেক সভাপতি জাহিদুর রহমান, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি রিয়াদুল ইসলাম। পথসভা শেষে জামায়াত আমির কুষ্টিয়ার পথসভায় যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঝিনাইদহ ত্যাগ করেন।
