ছবির ক্যাপশন:
দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আধারে গাছ কেটে রাস্তার ওপর ফেলে রাখার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধের আশঙ্কা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও এ বিষয়ে দামুড়হুদা ও দর্শনা থানা পুলিশের বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে।
গত বুধবার রাতে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা দর্শনা-লোকনাথপুর-পরানপুর গ্রামের সংযোগ সড়কের পাশের একটি গাছ কেটে রাস্তার ওপর ফেলে রাখে বলে স্থানীয়দের ধারণা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পথচারীরা গাছটি পড়ে থাকতে দেখেন। এতে ওই সড়কে যানবাহন ও মোটরসাইকেল চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কের পাশে থাকা গাছটি কেটে এমনভাবে ফেলে রাখা হয়, যাতে যানবাহন চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়। সকালে চলাচলকারী পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীরা গাছটি পড়ে থাকতে দেখে বিপাকে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা হলেও বিষয়টি প্রথমে দামুড়হুদা থানা পুলিশের নজরে আসেনি।
কে বা কারা রাতের আধারে গাছটি কেটে সড়কের ওপর ফেলে রেখেছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটি কি ডাকাতির উদ্দেশ্যে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, নাকি অন্য কোনো কারণে গাছটি কাটা হয়েছে- তা নিয়ে এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সকালে শোনা মাত্র ফোর্স পাঠিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। গাছ কেটে ফেলে রাখার ঘটনাটি লোকনাথপুরের ভেতরে এবং দামুড়হুদা থানার আওতাধীন এলাকায় ঘটেছে, তবুও বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি।’
অন্যদিকে, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘আজকের সারাদিন গাছ কাটা-সংক্রান্ত কোনো ঘটনা বা অপরাধের বিষয়ে আমার জানা নেই। এ ধরনের কোনো তথ্যও আমার কাছে আসেনি।’ রাত ৯টার পর তিনি পুনরায় জানান, ‘গাছটি অনেক আগেই কাটা হয়েছিল। গাছ কাটা নিয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্যও পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল দর্শনা থানা-পুলিশ পরিদর্শন করেছে।’
একদিকে রাতের আধারে গাছ কেটে সড়কের ওপর ফেলে রাখার অভিযোগ, অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য না থাকার বক্তব্য- সব মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। গাছটি কখন, কীভাবে এবং কী উদ্দেশ্যে কাটা হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
