জীবননগরে সেনা হেফাজতে ডাবলুর মৃত্যুর মামলা তদন্তে

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি

আপলোড তারিখঃ 2026-10-29 ইং
জীবননগরে সেনা হেফাজতে ডাবলুর মৃত্যুর মামলা তদন্তে ছবির ক্যাপশন:

জীবননগরে সেনা হেফাজতে নিহত পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু হত্যা মামলার তদন্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি মাসুদুর রহমান। গতকাল বুধবার সকালে তাঁর নেতৃত্বে সিআইডির একটি প্রতিনিধি দল জীবননগরে গিয়ে ডাবলুকে আটক করার স্থান এবং তাঁকে যেখানে আটকে রাখা হয়েছিল, সে সব স্থান পরিদর্শন করে। এসময় ঘটনার বিষয়ে তথ্য ও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়।


পরিদর্শনকালে নিহত শামসুজ্জামান ডাবলুর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জীবননগর পৌর বিএনপির সহসভাপতি তাজুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঈন উদ্দীন ময়েন, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন ইকবাল ঠান্ডু, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হযরত আলীসহ স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা।


উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি রাতে চুয়াডাঙ্গা সেনা ক্যাম্পের একটি দল জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত ডাবলুর নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে তাঁকে সেনা হেফাজতে নেয়। তাঁর বয়স ছিল ৫২ বছর। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাঁকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


ডাবলুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাত থেকেই হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। পরদিন দুপুরে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাসের পর তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গায় নেওয়া হয়। ময়নাতদন্তে ডাবলুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তে নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসক ডা. এহসানুল হক তন্ময় জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা আঘাতের চিহ্নের সঙ্গে মরদেহে পাওয়া দাগের মিল রয়েছে এবং সেগুলো পরস্পরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।


এ ঘটনায় দীর্ঘ পাঁচ মাস পর গত ১৯ জুন আদালতে নয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় চুয়াডাঙ্গা আর্মি ক্যাম্পের তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফাহাদকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়া, যে কর্মকর্তার হেফাজতে ডাবলুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে, সেই ক্যাপ্টেন সৌমিকসহ আরও আটজনকে আসামি করা হয়।


মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি ডাবলুর পরিবারের সদস্যরা। নিহত ডাবলুর স্ত্রী জেসমিন আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার তিনটি মাসুম সন্তানকে এতিম করা হয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চাই।’ মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সিআইডির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শনকে তদন্তের অগ্রগতির একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)