চুয়াডাঙ্গা গার্লস স্কুলে প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তে বেরিয়ে এলো আরও অনিয়মের অভিযোগ

ভর্তি জালিয়াতি, স্বাক্ষর জালসহ নানা অপকর্ম, অফিস সহায়ক আটক

আপলোড তারিখঃ 2026-10-29 ইং
চুয়াডাঙ্গা গার্লস স্কুলে প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তে বেরিয়ে এলো আরও অনিয়মের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে সামনে এসেছে আরও কিছু গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ। বিদ্যালয়টির অফিস সহায়ক মো. শাহজামালের ব্যক্তিগত কম্পিউটার পরীক্ষা করে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে মাস্টার রোলে নিয়োগ, শিক্ষার্থী ভর্তি এবং শিফট পরিবর্তনসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের পর গতকাল বুধবার রাতে তাঁকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তদন্ত শেষ হয়নি।


বিদ্যালয়ে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার তদন্তের মধ্যেই নতুন এসব অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি নিয়োগ ও ভর্তি কার্যক্রমেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


গত ২৬ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকিকে প্রধান করে গঠিত ওই কমিটিকে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়।


তদন্তের অংশ হিসেবে কমিটির প্রধান বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. শাহজামালের ব্যক্তিগত কম্পিউটার জব্দ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নিয়ে যান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই কম্পিউটারে সংরক্ষিত বিভিন্ন নথি ও তথ্য যাচাই করতে গিয়ে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের বাইরেও বিদ্যালয়ের নিয়োগ, ভর্তি ও শিক্ষার্থীদের শিফট পরিবর্তনসংক্রান্ত কিছু তথ্য সামনে আসে।


বিদ্যালয় ও প্রশাসনসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত শাহজামালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে মাস্টার রোলে লোক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও অফিস সহায়ক পদে চাকরি করেও তিনি বেতন তুলতেন কম্পিউটার অপারেটর পদে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ব্যক্তিগত কম্পিউটারে পাওয়া তথ্যের মধ্যে মাস্টার রোলে নিয়োগসংক্রান্ত নথি রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে কোন কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, কতজন নিয়োগ পেয়েছেন, কত টাকা লেনদেন হয়েছে এবং কথিত নথিগুলোতে কার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে- এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।


শুধু নিয়োগসংক্রান্ত নথিই নয়, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি এবং শিফট পরিবর্তনসংক্রান্ত কিছু তথ্যও কম্পিউটারে পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এসব তথ্যের সঙ্গে ভর্তি-বাণিজ্য বা অনিয়মের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। 


এসব তথ্যের বিষয়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করতে গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে যান তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকি। এসময় তিনি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অভিযোগের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন বলে জানা গেছে।


পরে শাহজামালকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে রাত গভীর হওয়া এবং প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় ওই রাতেই তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা করা সম্ভব হয়নি বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সূত্র আরও জানায়, আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার উদ্যোগ নেবেন।


এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকি বলেন, ‘বিস্তারিত জানার পর সব বলতে পারব। আপাতত অভিযুক্ত থানা হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে জালিয়াতির নানা তথ্য পাওয়া গেছে।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)