ছবির ক্যাপশন:
জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ভৈরব নদের পাড়ে সামাজিক বনায়নের আওতায় লাগানো প্রায় দুই হাজার গাছ রাতের আঁধারে কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত রোববার দিবাগত রাতে মনোহরপুর বাঁশের সাঁকো থেকে ধোপাখালী ব্রিজ পর্যন্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এত বিপুলসংখ্যক গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে গাছ কাটার পেছনে কারা জড়িত বা এর কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মনোহরপুর বিলের ধার দিয়ে ভৈরব নদের পাড়ে সামাজিক বনায়নের আওতায় লাগানো শিশু, মেহগনি, বাবলা, ইপিলিপি, চটকা, অর্জুন, শিমুল ও চন্দনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ গোড়া থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক গাছ কেটে ফেলায় এলাকার পরিবেশ ও সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাছগুলো দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও সবুজায়নে ভূমিকা রাখছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে কে বা কারা গাছগুলো কেটে ফেলেছে, তা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। সরকারি উদ্যোগে লাগানো গাছের নিরাপত্তার দায়িত্বে পাহারাদার থাকার পরও কীভাবে এত গাছ কাটা হলো, সে প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গাছ পাহারার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাঁরা এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি। তবে তাঁদের একজন এর আগে বলেছিলেন, গাছগুলো তাঁরা পরিচর্যা ও পাহারা দিয়ে আসছিলেন। রোববার দিনের বেলায়ও পাহারা দিয়েছেন। সোমবার সকালে এসে দেখেন, কে বা কারা শত্রুতামূলকভাবে সব গাছ গোড়া থেকে কেটে ফেলেছে।
জীবননগর উপজেলা বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম কাজল বলেন, মনোহরপুর বাঁশের সাকো হতে ধোপাখালী ব্রিজ পর্যন্ত ভৈরব নদের পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দুই হাজার গাছ রাতের আধারে দুষ্কৃতিকারীরা কেটে দিয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। ইতিপূর্বেও কয়েকদিন আগে কয়েকটি গাছ কেটে দিয়েছিল ধোপাখালী গ্রামের কিছু লোক। ওই সময় থানায় একটি অভিযোগ করা হয়। ওই অভিযোগটিই এখন মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হবে।
