ছবির ক্যাপশন:
দীর্ঘ ১৭ দিন পর লাটভিয়া থেকে নিজ ভিটায় ফিরেছে সোহেল রানার (৪৫) নিথর দেহ। গতকাল রোববার বিকেলে লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। এসময় এক নজর দেখতে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে সোহেলের বাড়িতে শত শত কৌতূহলী ও শোকার্ত গ্রামবাসী ভিড় জমান। সোহেল রানা সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে।
নিহতের শ্বশুর আলফাজ উদ্দীন জানান, ইতালি পাঠানোর নামে মানব পাচারকারী চক্রের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে গত ৭ অক্টোবর লাটভিয়া ও বেলারুশ সীমান্তের একটি জঙ্গল থেকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তার জামাই সোহেলকে উদ্ধার করে সেদেশের পুলিশ।
তিনি আরও জানান, পরদিন ৮ অক্টোবর লাটভিয়ার লাতগালে অঞ্চলের দাওগাউপিলস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ১২ অক্টোবর খুদে বার্তায় পরিবারকে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদ জানায় পোল্যান্ড পুলিশ। ১৭ অক্টোবর তার মেয়ে ও নিহতের স্ত্রী জেসমিন সুলতানা মানব পাচার ট্রাইব্যুনালে ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত ঝিনাইদহ সদর থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেয়।
নিহতের পিতা আবুল হাশেম জানান, আইনি প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক জটিলতা শেষে রোববার বিকাল ৩টার দিকে সোহেল রানার মরদেহ ঢাকা থেকে ঝিনাইদহের রামচন্দ্রপুর গ্রামে পৌঁছায়। লাশবাহী গাড়ি বাড়িতে এলে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের স্ত্রী, সন্তান ও নিকটাত্মীয়রা।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক নিলু জানান, রোববার বিকেলে স্থানীয় রামচন্দ্রপুর স্কুল মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। গ্রামবাসী ঘটনার সাথে জড়িত মানব পাচারকারী দালাল চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
