দেশে লাশের অপেক্ষায় স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবার

লাটভিয়ার দাওগাভপিলস হাসপাতালের মর্গে সোহেলের মরদেহ

আপলোড তারিখঃ 2026-10-23 ইং
দেশে লাশের অপেক্ষায় স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবার ছবির ক্যাপশন:

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন সোহেল রানা। স্বপ্ন ছিল, দুই সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করবেন, পরিবার নিয়ে সুখে-শান্তিতে সংসার গড়বেন। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে জমি বিক্রি করে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু মানবপাচারকারী চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত বিদেশের মাটিতে প্রাণ হারালেন সোহেল। বর্তমানে তাঁর মরদেহ রয়েছে লাটভিয়ার দাওগাভপিলস হাসপাতালের মর্গে। স্বামীর নিথর দেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন কাটছে স্ত্রী জেসমিন সুলতানা ও দুই সন্তান ১৫ বছর বয়সী তাফিম আহমেদ এবং সাত বছরের জায়ান। শোকে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার। সোহেল রানা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা হাজি আবুল হাশেমের বড় ছেলে।
পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় দালাল সোহাগ সরকার ও তাঁর ভাই নাসির সরকারের প্রলোভনে পড়ে সোহেলকে বিদেশে পাঠানোর জন্য জমি বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ টাকা দেন তাঁর স্বজনেরা। ইতালিতে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কয়েক দফায় টাকা নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পরিণত হয় চরম দুঃস্বপ্নে।


সোহেলের স্ত্রী জেসমিন সুলতানা অভিযোগ করেন, প্রথমে টুরিস্ট ভিসায় কাতারে নিয়ে যাওয়া হয় সোহেলকে। সেখান থেকে তিন মাসের মধ্যে বৈধভাবে বিমানে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেন সোহাগ ও নাসির। এ জন্য প্রথম দফায় কাতারে থাকাকালীন তাঁদের ২৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু কাতারে এক বছর অবস্থান করেও ইতালি যেতে পারেননি সোহেল।


একপর্যায়ে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিলে তাঁর পাসপোর্ট আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন জেসমিন। পরিবারের পক্ষ থেকে দুই দফায় বিমানের টিকিট কেটে দেওয়া হলেও সোহেল দেশে ফিরতে পারেননি।
পরিবারের অভিযোগ, দেশে ফেরার চেষ্টা করায় সোহেলকে অপহরণ করে মিশর নিয়ে যায় দালাল চক্র। পরে তাকে বেলারুশ নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে তাঁকে জিম্মি করে কয়েক দফায় আরও টাকা আদায় করা হয়। সব মিলিয়ে চক্রটি ৪৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে দাবি পরিবারের।


পরে সোহেলকে পায়ে হেঁটে জঙ্গলের পথ দিয়ে পোল্যান্ড হয়ে লাটভিয়ার দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পথে লাটভিয়ার জঙ্গলে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ফেলে রেখে চলে যায় চক্রের সদস্যরা। গত ৭ অক্টোবর লাটভিয়ার সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাঁকে উদ্ধার করে দাওগাভপিলস হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা ১২ অক্টোবর তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
সোহেলের বাবা হাজি আবুল হাশেম বলেন, ‘জমিজমা বিক্রি করে সোহাগের কথামতো কয়েক দফায় ৪৬ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। আমার সন্তানকে বিদেশে পাঠানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিল তারা। অথচ ছেলেকে হারালাম, টাকাও হারালাম। এখন আমার আর কিছু চাওয়ার নেই। আমি ছেলের মরদেহ দেশে ফেরত চাই এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।’ এদিকে অভিযুক্ত সোহাগ সরকারের বক্তব্য জানতে তাঁর বাড়িতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)