ছবির ক্যাপশন:
ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মানব পাচারকারীদের হাতে ৪৬ লাখ টাকা দিয়েও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি ঝিনাইদহের সোহেল রানা (৪৫)। লাটভিয়ার একটি জঙ্গল থেকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধারের পর হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জেসমিন সুলতানা মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
সোহেল রানা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের আবুল হাশেমের ছেলে। গত ৮ অক্টোবর লাটভিয়ার লাতগালে অঞ্চলের দাওগাউপিলসের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন- ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের শামছুন্নাহার (৫৫), তাঁর স্বামী শাহাজান সরকার (৫৮), তাঁদের দুই ছেলে ইতালিপ্রবাসী সোহাগ (৩৫) ও কাতারপ্রবাসী নাসির সরকার (৩২), আবুল কালাম সরকারের ছেলে সোহেল রানা (৪১), শাহাজান সরকারের জামাতা আব্দুর রাজ্জাক (৫০), সোহাগ সরকারের স্ত্রী তন্নি সরকার (৩২), মিশরপ্রবাসী রিয়াদ দেওয়ান (৩৫) এবং শরিফুল সরকার (৪৮)।
সোহেলের স্ত্রী জেসমিন সুলতানা জানান, বৈধ পথে ইতালি পাঠানোর কথা বলে প্রথমে ২৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এরপর ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল সোহেলকে কাতারে পাঠানো হয়। ৯০ দিনের মধ্যে তাঁকে ইতালি নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও কাজের ব্যবস্থা করা হয়নি। পরে দেশে ফেরার জন্য টিকিট পাঠানো হলেও তাঁকে ফিরতে না দিয়ে মিসর হয়ে ইতালি পাঠানোর কথা বলে আসামিরা আরও পাঁচ লাখ টাকা নেন। ওই টাকা দেওয়ার পর ২০২৬ সালের ১৪ আগস্ট তাঁকে ইতালির পরিবর্তে মিসরে পাঠানো হয়।
জেসমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট সোহেল রানার ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে গত ৯ অক্টোবর আরও সাড়ে চার লাখ টাকা চাওয়া হয়। সোহেলের জীবন রক্ষার আশায় পরিবার কয়েক কিস্তিতে টাকা পাঠায়।
তিনি জানান, গত ১২ অক্টোবর লাটভিয়ার পুলিশ তাঁদের বার্তা পাঠিয়ে জানায়, ৭ অক্টোবর সোহেলকে একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরদিন ৮ অক্টোবর তিনি মারা যান।
সোহেলের শ্যালক ইশতিয়াক আহমেদ মঙ্গলবার বিকেলে জানান, বৈধ পথে ইতালি পাঠানোর কথা বলে সোহেলকে প্রায় দেড় বছর ধরে বিভিন্ন দেশে ঘোরানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, লাটভিয়া ও বেলারুশ সীমান্তের একটি জঙ্গলে তাঁকে নির্যাতনের পর ফেলে রাখা হয়। পরে পোল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন, লাটভিয়ার সীমান্তরক্ষীরা ৭ অক্টোবর সোহেলকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান ইশতিয়াক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, বিদেশে পাঠানোর কথা বলে এই চক্রটি রামচন্দ্রপুরসহ হলিধানী ইউনিয়নের অন্তত ১৫ জনের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছে। তাঁরা ইতালিতে যেতে না পেরে বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এনামুল হক নিলু মঙ্গলবার জানান, রামচন্দ্রপুর গ্রামের সোহেল রানা লাটভিয়ার জঙ্গল থেকে উদ্ধারের পর সেখানকার একটি হাসপাতালে মারা গেছেন বলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরেছেন। ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন মঙ্গলবার বিকেলে জানান, পুলিশ সদর দপ্তর বা বিদেশি কোনো দূতাবাস থেকে এ বিষয়ে তাঁদের কাছে এখনো তথ্য আসেনি। খবর পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
