ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকলসহ দেশের নয়টি চিনিকল এলাকার আখচাষিদের জন্য প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক কলাকৌশল ব্যবহারের মাধ্যমে আখচাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে বন্ধ থাকা ছয়টি চিনিকল বেসরকারি উদ্যোক্তাদের যৌথ অংশগ্রহণে পুনরায় চালুর উদ্যোগের কথাও জানানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজশিয়ার মূল অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শ্রমিকনেতা ও আখচাষিরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আট মাস আগের নির্বাচনী জনসভায় কথা দিয়েছিলাম, জনগণ ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দিলে কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াব। আমরা কথা রেখেছি। সরকার গঠনের মাত্র সাত দিনের মধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সকল কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। আজ সারাদেশের প্রায় ৩৯ হাজার কৃষককে এই প্রণোদনার আওতায় আনা হচ্ছে।’
বন্ধ কলকারখানা পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিক ভাইদের কষ্ট দূর করতেই বন্ধ হওয়া কলকারখানা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই বন্ধ থাকা ৬টি চিনিকল বেসরকারি উদ্যোক্তাদের যৌথ অংশগ্রহণে পুনরায় চালু করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিএনপি জনগণের সরকার; আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি বলেই প্রতি মুহূর্তে কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের কল্যাণের কথা ভাবি।’
এসময় কৃষকদের বহুমুখী সেবা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য ১০টি বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মোবারকগঞ্জ চিনিকল প্রাঙ্গণে আয়োজিত ভার্চুয়াল সম্প্রচার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আ ন ম জোবায়ের, মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) গৌতম কুমার মণ্ডল, মহাব্যবস্থাপক (কারখানা) মো. আলমগীর হোসেন, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মো. জাহিদুল ইসলাম এবং মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. সাইফুল আলম।
এছাড়া শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. সাহার আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম এবং আখচাষি প্রতিনিধি মো. ফোরকান আলী, মো. সিরাজুল ইসলাম, মো. মাসুদ রানা পারভেজ, মো. আব্দুর রহিম, মো. কুদ্দুস আলী, মো. বাবুল, মো. মুকুল হোসেন ও মিন্টুসহ স্থানীয় আখচাষি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
