ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা উপজেলার ওসমানপুর গ্রামে চার লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে মোছা সামসুন্নাহার (৩৩) নামের এক গৃহবধূকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হারদী হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্বামী সোহাগ মাহমুদ (৩৮) ও শাহিন আলীর বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে ওসমানপুর গ্রামের সোহাগ মাহমুদের সঙ্গে সামসুন্নাহারের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, বিয়ের সময় নগদ ১০ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র দেওয়া হয়েছিল।
সামসুন্নাহারের অভিযোগ, গত এক বছর ধরে তাঁর স্বামী বিভিন্ন সময়ে যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। এ নিয়ে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে তিনি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেও বিভিন্ন সময়ে টাকা এনে স্বামীকে দিয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন তিনি।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১৫ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে বাবার বাড়ি থেকে আরও চার লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলা হয় তাঁকে। এতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন সামসুন্নাহার। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হারদী হাসপাতালে নিয়ে যান।
দীর্ঘ ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাঁদের এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে এবং ছেলে এখনো নাবালক। পারিবারিক বিরোধের এমন পরিস্থিতিতে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী। তবে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
এদিকে, সোহাগ মাহমুদের সঙ্গে এক নারীর পরকিয়া সম্পর্ক রয়েছে বলেও অভিযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ বিষয়ে সোহাগের পরকীয়া প্রেমিকা মুসলিমার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অভিযোগের বিষয়ে সোহাগ মাহমুদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কাছ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি।
