ছবির ক্যাপশন:
অনুমোদনহীন ও শর্তভঙ্গকারী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের দৌরাত্ম্যে চুয়াডাঙ্গায় জনস্বাস্থ্য এখন চরম হুমকির মুখে। সরকারি নির্দেশনা ও নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে চুয়াডাঙ্গা শহরের সদর হাসপাতাল রোডে বহাল তবিয়তে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ‘একতা ক্লিনিক’ (একতা নার্সিং হোম)। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দাপ্তরিক নথি বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বৈধ লাইসেন্স নেই গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে। এমনকি পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘পরিবেশ ছাড়পত্র’ ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণভাবে পরিচালিত হচ্ছে ক্লিনিকটি।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, যেকোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স এবং নিবন্ধিত পূর্ণকালীন চিকিৎসক ও ডিপ্লোমাধারী নার্স থাকা বাধ্যতামূলক। তবে সরেজমিনে ও সরকারি কার্যালয়ের তথ্যে দেখা যায়, একতা ক্লিনিকের ক্ষেত্রে এসব আইনি বাধ্যবাধকতার অধিকাংশেরই কোনো অস্তিত্ব নেই। লাইসেন্স নবায়নের জন্য যেসব ন্যূনতম শর্ত ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (ডডউচ) থাকা প্রয়োজন, তা পূরণে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের তালিকায় দীর্ঘদিন ধরেই একতা ক্লিনিকের নামের পাশে ‘লাইসেন্স ও ছাড়পত্র নাই’ উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে ‘নোটিশ প্রদান’ বা ‘সময় বেঁধে দেওয়ার’ কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর বা স্থায়ী অভিযান দেখা যায়নি। লোক দেখানো সতর্কবার্তার সুযোগ নিয়ে বছরের পর বছর অবৈধভাবে ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিক্যাল সেবা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
