ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গায় চয়েন আলী (৪৯) হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি হেলাল মিয়াকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার হারদী ও বাজিতপুরের সীমান্ত এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হেলাল মিয়া কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আসাননগর গ্রামের ইয়ামিনের ছেলে। বর্তমানে তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার ওসমানপুর নতুনপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত চয়েন আলী আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী কৃষি ক্লাবপাড়া এলাকার বাসিন্দা। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে হেলাল মিয়া ফোন করে চয়েনকে ওসমানপুর নতুনপাড়ায় তার বাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চয়েনের মোবাইল ফোন থেকে তার ছেলে মারুফের কাছে ফোন করা হয়। এসময় হেলাল দাবি করেন, চয়েনের কাছে তিনি টাকা পাবেন এবং মারুফকে স্ট্যাম্প নিয়ে তার বাড়িতে যেতে বলেন।
মারুফ আলমডাঙ্গা থেকে স্ট্যাম্প কিনে হেলালের বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বেলা একটার দিকে হেলাল ফোন করে জানান, চয়েন ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এবং তাকে হারদী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে স্বজনরা বেলা দুইটার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চয়েনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এসময় তার বাম পাশে থুতনির নিচে রক্তাক্ত জখম এবং পিঠ ও গলায় হালকা কালশিরে দাগ দেখতে পান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. মাজেদা খাতুন (৪৪) বাদী হয়ে হেলাল মিয়া, তার স্ত্রী লাবনী (৪০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে ৭ অক্টোবর অভিযোগটি হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। পুলিশ জানায়, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এজাহারভুক্ত ও সংশ্লিষ্ট অন্য আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
