ছবির ক্যাপশন:
স্বামী স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে প্যারালাইজড। ঘরে ছোট ছোট তিন সন্তান। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরিবারটির নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটছিল আসাননগরের শহিদুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের। এমন পরিস্থিতিতে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহিনুর আক্তার। পরিবারটির দুর্দশার খবর পেয়ে তিনি নিজে তাদের বাড়িতে গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি দেখেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে প্যারালাইজড হওয়ায় বর্তমানে তিনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না। ফলে পরিবারের আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। স্বামীর চিকিৎসা, তিন সন্তানের ভরণপোষণ এবং সংসারের অন্যান্য খরচ চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়েন তাঁর স্ত্রী।
পরিবারটির অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে ইউএনও শাহিনুর আক্তার তাদের বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ শহিদুল ইসলামের খোঁজ নেন এবং তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে পরিবারের প্রয়োজন বিবেচনায় নগদ অর্থ, টিন ও শুকনা খাবারসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি পরিবারের নিরাপদ বসবাসের জন্য নির্মাণ করে দেন একটি নতুন ঘর। নতুন ঘর পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে পরিবারটির মাঝে। এতদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা তিন শিশুর জন্যও তৈরি হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়।
শহিদুল ইসলামের স্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমার পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ ছিল না। স্বামী অসুস্থ, ঘরে তিনটি ছোট সন্তান- কীভাবে সংসার চালাব, কীভাবে সন্তানদের বড় করব, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। এমন সময়ে ইউএনও শাহিনুর আক্তার আমাদের বাড়িতে এসে সাহস দিয়েছেন। তিনি নগদ টাকা, টিন ও শুকনা খাবার দিয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের থাকার জন্য একটি নতুন ঘর করে দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি শুধু একবার সহায়তা করেই দায়িত্ব শেষ করেননি। মাঝে মাঝেই আমাদের খোঁজ নেন, আবার প্রতিনিধি পাঠিয়েও খবর নেন। তাঁর এই সহযোগিতা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তাঁদের মতে, শহিদুল ইসলামের পরিবারের জন্য নতুন ঘরটি শুধু একটি বসবাসের জায়গা নয়, বরং সংকটের সময়ে পরিবারটির জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়। অসহায় এই পরিবারের পাশে প্রশাসনের এমন উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও সমাজের অসচ্ছল ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে প্রশাসনের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
