ছবির ক্যাপশন:
তৃণমূল পর্যায় থেকে উদীয়মান ক্রীড়াবিদ তৈরি ও নতুন প্রতিভা অন্বেষণের যে তাগিদ স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বারবার দেওয়া হচ্ছে, চুয়াডাঙ্গায় আয়োজিত জেলা পর্যায়ের এক প্রতিযোগিতায় তার ঠিক উল্টো চিত্র ফুটে উঠেছে। ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা এবং তৃণমূলের সম্পৃক্ততা ছাড়াই চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘সাঁতার টুর্নামেন্ট-২০২৬’। এ নিয়ে স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ের ক্রীড়া সংগঠকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূলের ক্রীড়াবিদদের বাদ দিয়ে এক প্রকার তড়িঘড়ি ও লোকদেখানো আয়োজনের মধ্যদিয়ে সরকারি অর্থের অপচয় করা হচ্ছে।
জেলা ক্রীড়া সংস্থা সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গার পুরাতন স্টেডিয়াম সুইমিংপুলে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আয়োজনের ব্যানারে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি লুৎফুন নাহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার, জেলা ক্রীড়া অফিসার ও আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. সেলিম রেজা, জেলা সমাজসেবা উপ-পরিচালক ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জাকির হোসেন এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাজী মামুনুজ্জামানের নাম উল্লেখ রয়েছে।
অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্বে ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটি সদস্য বি.এম. তারিক-উজ-জামান-এর এবং সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মো. বিপুল হাসান (হ্যাজি)।
তবে জমকালো এই অতিথি তালিকার বিপরীতে বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে দাবি মাঠপর্যায়ের ক্রীড়া অনুরাগী ও উপজেলা পর্যায়ের সংগঠকদের। বেশ কয়েকজন ক্রীড়া সংগঠক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেলা পর্যায়ের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সাঁতার টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, অথচ উপজেলা পর্যায়ের সংগঠক ও ক্রীড়াবিদরা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। কোথাও কোনো দৃশ্যমান মাইকিং, বিলবোর্ড কিংবা ব্যানার-পোস্টারের মাধ্যমে প্রচার চালানো হয়নি। এতে করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের উদীয়মান সাঁতারুরা তাদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যেখানে খেলাধুলার ব্যাপক প্রসার ও দেশের অলিতে-গলিতে ক্রীড়া চর্চা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে অনুশাসন দিয়ে আসছেন, সেখানে জেলা ক্রীড়া সংস্থার এমন দায়সারা ও বন্ধ দরজার আয়োজন সরকারের মূল লক্ষ্যকেই ব্যাহত করছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
