ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ৫১২ বস্তা ভর্তুকির সরকারি সার জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মেসার্স তৌফিক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও কীটনাশক ব্যবসায়ী মো. আব্দুল খালেককে আটক করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোরে হাসাদাহ বাজারের একটি কীটনাশকের দোকানের গোডাউন থেকে সার বের করে পাখিভ্যানে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে জীবননগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করে।
জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে হাসাদাহ বাজারের মেসার্স তৌফিক ট্রেডার্সে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ব্যবসায়ী আব্দুল খালেকের চারটি গোডাউন থেকে ৫১২ বস্তা ভর্তুকির সরকারি সার জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মেসার্স তৌফিক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল খালেককে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, জব্দ করা ৫১২ বস্তা সারের মধ্যে ৪৫ বস্তা ইউরিয়া, ৩৫০ বস্তা ডিএপি, ৭৮ বস্তা টিএসপি ও ৩৯ বস্তা এমওপি সার রয়েছে।
এদিকে, সার জব্দের অভিযান বন্ধ করা এবং বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও সাংবাদিককে টাকা দিয়ে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ-সংক্রান্ত একটি কল রেকর্ড এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা বলেন, বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সময়ের কিছু সার ডিলার সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন। আর ব্যবসায়িক স্বার্থে কিছু নেতা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, এর আগের দিন শুক্রবার জীবননগর বাজারের সান্ত্বনা ট্রেডার্স থেকে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ৪০৩ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি। ফলে এক দিনের ব্যবধানে জীবননগরে মোট ৯১৫ বস্তা সরকারি সার জব্দ হলো।
