ছবির ক্যাপশন:
দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নিজেদের খরচে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে ৩৮টি সুনির্দিষ্ট লিখিত প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকার তা ভ্রুক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে অতীতে পাশে থাকার ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপিকে ‘অকৃতজ্ঞ’ আখ্যা দেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে অন্ধ বিরোধিতার রাজনীতি করার অভিযোগ তোলেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঝিনাইদহ শহরের হামদহ এলাকায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপিকে ‘অকৃতজ্ঞ’ দল হিসেবে আখ্যা তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘বিএনপি চরম অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দিচ্ছে। ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং আধিপত্যবাদী শক্তিকে প্রতিহত করার স্বার্থে জামায়াত বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু সরকার গঠনের পরপরই তারা জামায়াতের তৎকালীন কেন্দ্রীয় আমিরকে কারাগারে পাঠায়। ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনায় আমাদের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে শহিদ করা হয়েছিল, ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলায় জীবন দিতে হয়েছিল আমাদের শিবিরের ছেলেদের।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বারবার বিএনপিকে সহযোগিতা করতে চেয়েছি, কিন্তু তারা জামায়াতের অন্ধ বিরোধিতায় মেতে উঠেছে। বিএনপির অবস্থা এখন সেই ‘নেই কাজ তো খৈ ভাজ’ প্রবাদের মতো।’ তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সব জায়গায় লুটপাটের সিন্ডিকেট করেছে। অফিস-আদালতসহ হাট-ঘাট-মাঠ দখল করে এক নজিরবিহীন দুর্নীতির রেকর্ড গড়েছে।
আওয়ামী লীগকে মাঠে নামাতে জামায়াত ইন্ধন দিচ্ছে- বিএনপির এমন দাবির জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘বিশাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা বহাল থাকা সত্ত্বেও নিষিদ্ধ একটি দল সারাদেশে মিছিল করে কীভাবে? সরকার ও প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ইন্ধন ছাড়া কি রাজপথে এমন কর্মসূচি সম্ভব? আমরা প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করছি- আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের কোনো ধরনের যোগাযোগ বা আঁতাতের প্রমাণ থাকলে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করুন।’
সংসদে বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতা করছে না, প্রশাসনের এমন অভিযোগকে ‘হাস্যকর’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধী দলে বসার পর জামায়াত সংকট মোকাবিলায় ছায়া মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে সরকারকে এ পর্যন্ত ৩৮টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও প্রস্তাবনা দিয়েছে। এমনকি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সচল করতে নিজেদের খরচে বিশেষজ্ঞ এনে মতামত তৈরি করে সরকারের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। কিন্তু সরকার সহযোগিতার হাত না বাড়িয়ে কেবল বিরোধিতার খাতিরেই বিরোধিতার নীতি আঁকড়ে ধরে আছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশে অশান্তি সৃষ্টিতে ভারত সরকার সহযোগিতা করছে। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিতে শেখ হাসিনার দেওয়া সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পরাজিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় অপতথ্য দিয়ে দেশ অশান্ত করতে ভারত সরকার সহযোগিতা করছে।’
তিনি বলেন, যারা গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের মুখোমুখি হয়েছেন, তাদের বিভিন্ন গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রভাবিত করার চেষ্টা করা উচিত নয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এ দেশের জনগণ। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ বা প্রভাব বিস্তার কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনালের ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত দিনব্যাপী ‘শিক্ষা শিবির’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমীর ও ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল এবং কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাসহ স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
