আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওটি চালু হলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা

৩ মাসে ছয়টি অপারেশন, জনবল সংকটে চিকিৎসাসেবা ব্যহত

আপলোড তারিখঃ 2026-09-24 ইং
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওটি চালু হলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা ছবির ক্যাপশন:

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর নতুন আশা ও উদ্দীপনা নিয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওটি (অপারেশন থিয়েটার) চালু করা হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। চালুর পর তিন মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এ পর্যন্ত মাত্র ছয়টি অপারেশন হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।


গত ৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটি উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। দীর্ঘদিন পর ওটি চালু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে নিয়মিত অপারেশন কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না।


হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গাইনি ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসকের সংকটের কারণে নিয়মিত অপারেশন করা যাচ্ছে না। এর পাশাপাশি এক্স-রে টেকনিশিয়ান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরও সংকট রয়েছে। ফলে ওটি চালুর পরও এর সুফল পুরোপুরি পাচ্ছেন না রোগীরা। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সমস্যার সময় জেনারেটর চালানোর জন্য সরকারি জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ সমস্যা মোকাবিলায় নিজস্ব উদ্যোগে সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ চলছে।


এদিকে হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিটের মূল্য ৭ টাকা নির্ধারিত থাকলেও খুচরা টাকা না থাকায় রোগীদের কাছ থেকে ১০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ৭ টাকার টিকিটের বিপরীতে ১০ টাকা নেওয়া হলেও অতিরিক্ত ৩ টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না।


হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রমেলা নামে এক রোগী বলেন, ‘টিকিটের মূল্য ৭ টাকা হলেও ৩ টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। ৭ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা নির্ধারণ করে সরকারি ফান্ডে নেওয়া হলে বিষয়টি পরিষ্কার থাকত। অন্যথায় টিকিটের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী টাকা নেওয়া উচিত।’


সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে পানি সরবরাহ, টয়লেট ও ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়েও রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। এসব ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।


এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি তথ্য দিতে বাধ্য নই। আমি তথ্য দেব একমাত্র কর্তৃপক্ষকে।’ তথ্যের জন্য লিখিত আবেদন করার কথা বলা হলে তিনি জানান, ‘মন্ত্রণালয় বা সিভিল সার্জন যখন তথ্য দিতে বলবেন, তখন আমি দেব। এর বাইরে নয়।’ তিনি প্রয়োজনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার পরামর্শ দেন।


তবে হাসপাতালের সার্বিক সেবা প্রসঙ্গে ডা. শারমিন আক্তার বলেন, বর্তমানে জনবল সংকটের কারণে সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে। গাইনি ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় ওটি বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি এক্স-রে টেকনিশিয়ান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরও সংকট রয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাগজে-কলমে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকলেও হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আরও তিনজনকে রাখা হয়েছে। তাদের বেতনও দেওয়া হচ্ছে।


জেনারেটর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও উপজেলা শহরের জন্য সরকারিভাবে জ্বালানি তেলের কোনো ব্যবস্থা নেই। এ কারণে নিজস্ব অর্থায়নে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি চালু হলে বিদ্যুৎ সমস্যার সময় কিছুটা সুফল পাওয়া যাবে। টিকিটের টাকা নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে ডা. শারমিন আক্তার বলেন, রোগীদের খুচরা টাকা নিয়ে আসতে বলা হচ্ছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সবার টাকা খুচরা করে দেওয়া সম্ভব নয়।


স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত গাইনি ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক, এক্স-রে টেকনিশিয়ানসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট দূর, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জেনারেটর চালানোর জন্য জ্বালানি বরাদ্দ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন পর চালু হওয়া ওটির কার্যক্রম নিয়মিত করা গেলে আলমডাঙ্গার সাধারণ মানুষ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেই প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারসহ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)