ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কোটচাঁদপুর-সাফদারপুর সড়কের ২ হাজার ৬২০ মিটার সংস্কার ও কার্পেটিং কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার এ প্রকল্পে নির্ধারিত শিডিউল ও কারিগরি মান উপেক্ষা করে নিম্নমানের ৩ নম্বর ইট এবং ইটভাটার পরিত্যক্ত ‘ভাটা কুড়ানো ডাস্ট’ ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে এমন কিছু নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের দৃশ্য দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ঠিকাদার মো. শহিদুল ইসলাম দ্রুত সরে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে থাকা এলজিইডির কার্যসহকারী মো. আসাদুজ্জামানও স্থান ত্যাগের চেষ্টা করেন।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, সড়কের কাজে অনিয়ম হচ্ছে- এমন অভিযোগ তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তার দাবি, কাজ বন্ধের বিষয়ে তিনি নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তবে উপজেলা প্রকৌশলী কল্পনা রানী বিশ^াসসহ সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহিন রেজা বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না এবং এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী কল্পনা রানী বিশ^াসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে থাকার কথা জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে তার দপ্তর থেকে তিনি ঢাকায় প্রশিক্ষণে থাকার কথা জানা যায়। ইউএনও মো. শামিম হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি দেখছেন বলে জানান; পরবর্তী যোগাযোগের চেষ্টা সফল হয়নি।
এদিকে, অভিযোগের খবর পেয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোটচাঁদপুরের সাবেক সভাপতি ও এনসিপির ঝিনাইদহ-৩ আসনের অ্যাম্বাসেডর মো. হৃদয় আহমেদ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। তিনি বলেন, জনগণের অর্থে নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়; তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজের মান নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
LGED-এর কারিগরি নথিতে সড়ক নির্মাণে উপকরণের মান, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, স্তরভিত্তিক পরিমাপ ও প্রকৌশল তদারকির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের দ্রুত তদন্ত করে নিম্নমানের সামগ্রী প্রমাণিত হলে দায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় মান পরীক্ষা ছাড়া কোনো বিল অনুমোদন না করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
