দামুড়হুদার ছোট দুধপাতিলায় আন্তঃধর্মীয় বিয়ে নিয়ে সালিশ

‘গ্রাম ছাড়ার’ নির্দেশের খবরে ঘটনাস্থলে ইউএনও

আপলোড তারিখঃ 2026-09-23 ইং
দামুড়হুদার ছোট দুধপাতিলায় আন্তঃধর্মীয় বিয়ে নিয়ে সালিশ ছবির ক্যাপশন:

দামুড়হুদা উপজেলার ছোট দুধপাতিলা গ্রামে আন্তঃধর্মীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে সালিশে একটি হিন্দু পরিবারকে এক মাসের মধ্যে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ওই পরিবারের কাছ থেকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন।


গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ইউএনও সরেজমিনে ছোট্ট দুধপাতিলা গ্রামে গিয়ে ওই হিন্দু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। এসময় পরিবারের সদস্যরা গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ এবং ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়টি তার কাছে তুলে ধরেন। পরে ইউএনও টাকা নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত সাইফুল ও মাহাবুলকে সঙ্গে নিয়ে সালিশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আজ বুধবার সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ছোট্ট দুধপাতিলা গ্রামের মৃত ছলেমানের ছেলে সাইফুল ও ইব্রাহিমের ছেলে মাহাবুল ভয়-ভীতি দেখিয়ে ওই পরিবারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি।


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একই গ্রামের একটি হিন্দু পরিবারের ছেলে ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিম পরিবারের এক তরুণীকে বিয়ে করেন। এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় সালিশ বৈঠক হয়।


গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে হাউলি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম এবং হাউলি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ওবায়দুর হকের নেতৃত্বে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত গ্রামবাসীর সামনে ছেলে-মেয়ের সম্মতিতে হওয়া বিয়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সালিশে দুজনকে যার যার ধর্মে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়ার পাশাপাশি ওই হিন্দু পরিবারকে এক মাসের মধ্যে গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


তবে সালিশে আনুষ্ঠানিকভাবে তালাক বা বিবাহবিচ্ছেদের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ওই পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সালিশ ও গ্রাম ছাড়ার নির্দেশের বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাপা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।


ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য শ্রী উজ্জলের মা বলেন, ‘আমাদের ছেলে অন্যায় করলে তার বিচার হবে, এটা আমরা মেনে নেব। কিন্তু সাইফুল ও মাহাবুল আমাদের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। নিরুপায় হয়ে আমরা ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। আমরা গ্রাম ছেড়ে কোথায় যাব? আমরা নিরাপদে বসবাস করতে চাই।’


ঘটনাস্থলে ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন পরিবারটির সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘যে ঘটনাই ঘটুক, তার বিচার হবে। তাই বলে কোনো পরিবারকে বসতবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলা যাবে না। যারা টাকা নিয়েছেন, তাদের সেই টাকা ফেরত দিতে হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ভয় পাবেন না। কেউ হুমকি-ধমকি দিলে আমাকে জানাবেন।’


এসময় হাউলি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, হাউলি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ওবায়দুর হকসহ গ্রামের অর্ধশতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে সালিশে পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ এবং তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)