ছবির ক্যাপশন:
জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের মৃগমারি গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে ১১ মাস বয়সী নিজের কন্যাশিশুকে ঘাসপোড়া বিষ খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। পরে শিশুটিকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশু আনিকা জীবননগরের মৃগমারি গ্রামের আলামিন ও কাশিপুর গ্রামের সোনিয়া দম্পতির একমাত্র সন্তান। প্রায় আড়াই বছর আগে তাদের বিয়ে হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার সম্প্রতি আলামিন ও সোনিয়ার মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে স্বজনেরা বিষয়টি মীমাংসা করে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর সোনিয়া তার ১১ মাসের শিশুকন্যাকে বিষ খাওয়ান বলে অভিযোগ ওঠে। শিশুটির বাবা বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত তাকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিশুটির দাদী আলেয়া খাতুন বলেন, ‘আলামিন ও সোনিয়ার মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে আমরা সবাই মিলে বিষয়টি মিটমাট করে দিয়ে চলে আসি। এরপর শুনতে পাই, সোনিয়া তার মেয়ের গালায় বিষ দিয়েছে। আমরা দ্রুত ওরে গ্রামের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই। সেখানে বমি-টমি করে, তারপর চুয়াডাঙ্গায় নিয়ে আসি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সোনিয়াকে মেয়েকে বিষ দেওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে সে বলে, ‘আমিও মরব, মেয়েকেও মারব।’ তবে সে নিজে বিষপান করেনি, শুধু মেয়েকে খাওয়াইছে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন বলেন, সকালে আনিকা নামে ১১ মাস বয়সী একটি শিশুকে তার স্বজনেরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে বোঝা যায়, শিশুটিকে ঘাসপোড়া বিষ খাওয়ানো হয়েছে। স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে শিশুটির মা তাকে বিষ খাইয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরবর্তী চিকিৎসার জন্য বিষয়টি শিশু কনসালট্যান্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
এদিকে খবর পেয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘নিজের আপন মা কর্তৃক সন্তানের মুখে বিষ ঢেলে হত্যাচেষ্টার খবর শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছি। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সোনিয়া খাতুনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শিশুটি বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
