ছবির ক্যাপশন:
দামুড়হুদা উপজেলার কালিয়াবকরি গ্রামে অস্ত্রের মুখে একটি পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে ডাকাত দল। গত শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, কালিয়াবকরি গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে গোলাম হোসেন প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ১টার দিকে ৫-৬ জনের একটি দল হাফপ্যান্ট পরিহিত অবস্থায় বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে এসে গোলাম হোসেনকে গেট খুলতে বলে। তিনি গেট না খুললে ডাকাত দল জোর করে ঘরের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে।
পরে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ডাকাতরা ৮ লাখ টাকা দাবি করে। ঘরে এত টাকা নেই জানালে তারা পরিবারের সদস্যদের মারধর ও হত্যার হুমকি দেয়। এরপর তারা ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করে আলমারির তালা ভেঙে তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে কয়েকটি ব্যাগে রাখা ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং তিনটি সোনার চেইনসহ স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা। এ সময় আশপাশের লোকজন ছুটে এলে ডাকাত দল দ্রুত পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী গোলাম হোসেন বলেন, ‘আমার ও আমার স্ত্রীর গলায় বড় হাসুয়া ধরে তারা কথা বললে খুন করে ফেলার হুমকি দেয়। আমরা ভয়ে চুপ করে ছিলাম। তারা বারবার বলতে থাকে, তোদের ঘরে ৮ লাখ টাকা আছে, আমাদের দিয়ে দে। আমরা ঘরে কোনো টাকা নেই বললে তারা মারধর ও হত্যার হুমকি দিতে থাকে। পরে ঘরের সব জিনিস উলোটপালোট করে খুঁজতে থাকে। কয়েকটি ব্যাগ তল্লাশি করে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা, সোনার চেইন ও কানের দুল নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।’
খবর পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওসি শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, বাড়ির যে মুরুব্বি ছিলেন, তাঁর হাতের বালা ও কানের দুল নেয়নি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত ডাকাতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।
