ছবির ক্যাপশন:
‘দ্রুত ব্যবস্থা নিন, জীবন বাঁচান’Ñএই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় আন্তর্জাতিক সর্পদংশন সচেতনতা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালি শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহা. মশিউর রহমান।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সর্পদংশনের শিকার হন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতার অভাব, ওঝা-কবিরাজের ওপর নির্ভরশীলতা এবং হাসপাতালে যেতে দেরি করার কারণে অনেকের মৃত্যু ঘটে। সর্পদংশনে মৃত্যু ও অক্ষমতা কমাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, দেশে কোবরা, চন্দ্রবোড়া, শঙ্খিনী ও সবুজবোড়াসহ বিভিন্ন বিষধর সাপ রয়েছে। এসব সাপ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। রাতে চলাচলের সময় লাঠি ও টর্চলাইট সঙ্গে রাখা, ঘুমানোর সময় চৌকি ও মশারি ব্যবহার এবং বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। রাতে খাবার খেয়ে উচ্ছিষ্ট যেখানে-সেখানে না ফেলার বিষয়েও সতর্ক করা হয়।
তারা বলেন, সর্পদংশনের শিকার হলে দংশিত অঙ্গ বিশ্রামে ও স্থির রাখতে হবে এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব মোটরযানে করে হাসপাতালে নিতে হবে। এ সময় আতঙ্কিত না হওয়া, বমি না করানো, কথা বলতে অসুবিধা হলে কোনো খাবার না দেওয়া, দংশিত স্থানের ওপর গিট না দেওয়া এবং দংশিত স্থানে কাটাছেঁড়া না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ওঝা বা বেদের কাছে চিকিৎসা না নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সভায় সর্পদংশনের পর করণীয়, প্রাথমিক চিকিৎসা, দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর এবং কুসংস্কার পরিহারের বিষয়ে জনসচেতনতামূলক আলোচনা করা হয়।
এসময় আরএমও ডা. মহিব্বুল্লাহ, মেডিকেল অফিসার ইজাজ সিদ্দিকী তন্ময়, মেডিকেল অফিসার নাবিদ শাহরিয়ার, স্যানেটারি ইন্সপেক্টর নিয়ামত আলীসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
