ছবির ক্যাপশন:
রূপকথার গল্পে পশু-পাখির সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্বের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে এমন দৃশ্যের দেখা মেলা ভার। তবে দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের পাশে প্রতিদিনই দেখা মেলে এমনই এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই সেখানে তৈরি হয় এক অপূর্ব মায়াবী পরিবেশ। স্থানীয় চা দোকানদার আশাদুলের দোকানটি যেন প্রতিদিন সকালে পরিণত হয় এক খণ্ড অভয়ারণ্যে।
টানা পাঁচ বছর ধরে সকাল হলেই বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি মুক্ত পাখি দলবেধে ছুটে আসে আশাদুলের কাছে। বিন্দুমাত্র ভয় বা সংশয় না রেখে পাখিগুলো সরাসরি তার হাত থেকে খাবার গ্রহণ করে। আর পরম যত্নে ও ভালোবাসায় তিনি তাদের মুড়ি ও চাল খাইয়ে পেট ভরান।
এ বিষয়ে পাখিপ্রেমী আশাদুল বলেন, ‘প্রায় পাঁচ বছর ধরে আমি পাখিগুলোকে খাবার দিই। প্রতিদিন সকালে পাখিগুলো নিজেরাই আমার কাছে চলে আসে। ওরা আমার হাত থেকেই খাবার খায়। পাখিগুলোর জন্য মুড়ি, চালসহ বিভিন্ন খাবার দিই। পাখিগুলোকে খাবার খাওয়াতে আমার খুব ভালো লাগে। যতদিন পারি, এভাবেই ওদের খাবার দিয়ে যেতে চাই।’
শুধু আশাদুল নন, তাঁর এই পাখিপ্রেম মুগ্ধ করেছে স্থানীয় মানুষকেও। প্রতিদিন পাখিদের এমন নির্ভয় বিচরণ দেখতে ভিড় করেন অনেকেই। কার্পাসডাঙ্গা মাইক্রোস্ট্যান্ডের মাইক্রো চালক মিঠু জানান, ‘এখানে প্রতিদিন এতগুলো পাখি আসে, এটা সত্যিই অবাক করার মতো বিষয়। আশাদুল ভাই নিজের হাতে পাখিগুলোকে খাবার খাওয়ান। পাখিগুলোও তাঁকে চিনে ফেলেছে। এমন দৃশ্য আমাদের এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না।’
স্থানীয় বাসিন্দা বকুল ও ইমন জানান, ‘পাখিগুলো মানুষের কাছে এসে খাবার খাচ্ছে, অথচ কোনো ভয় করছে না। আশাদুলের ভালোবাসার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে বলে আমরা মনে করি। তাঁর এই উদ্যোগ অন্যদেরও পাখি ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা বাড়াতে অনুপ্রাণিত করবে।’
পাখি আর মানুষের এমন নিখাদ সখ্য সত্যিই অবাক করার মতো। কংক্রিটের এই যান্ত্রিক যুগে আশাদুলের এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগ প্রকৃতি ও প্রাণিকূলের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আশাদুলের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখে অন্যরাও পাখিদের প্রতি সহনশীল ও যত্নশীল হবেন। মানুষের ভালোবাসায় এভাবেই নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নেবে প্রকৃতির এই মুক্ত প্রাণগুলো।
