ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে দর্শনা পৌরসভাকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথম সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা। গতকাল রোববার বিকেল চারটায় চুয়াডাঙ্গা শহরের পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা। প্রথমার্ধের ১৯ মিনিটে শাকিলের গোলে এগিয়ে যায় দলটি। বিরতির পর ১৬ মিনিটে মহিবুলের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার পান শাকিল।
এর আগে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। ফুটবলে কিক দিয়ে এবং বেলুন ও শান্তির প্রতীক পাঁয়রা উড়িয়ে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করতে হবে। তাই কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রতিযোগিতা আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট সেই উদ্যোগের অংশ।
তিনি বলেন, এ আয়োজন চুয়াডাঙ্গায় ক্রীড়া চেতনার নবজাগরণ ঘটাবে এবং তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশে সহায়ক হবে। খেলাধুলা শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্ব, সহনশীলতা ও দলগত চেতনা গড়ে তোলে। পাশাপাশি মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশের মাধ্যমে তরুণদের মানবসম্পদে রূপান্তরিত করাই সরকারের লক্ষ্য। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। একটি মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে খেলাধুলার বিকল্প কিছু নেই। যুবসমাজকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।
খেলার শুরুতেই টস অনুষ্ঠিত হয়। টসে জয়লাভ করে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা। এরপর দুই দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন অতিথিরা। খেলোয়াড়দের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দেন তারা। মাঠে উপস্থিত দর্শকদের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে শুরু হয় টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ। পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তবে আক্রমণ ও গোলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেয় চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা।
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার হয়ে প্রথমার্ধের ১৯ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন শাকিল। গোলের পর ম্যাচে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা। দর্শনা পৌরসভাও গোল পরিশোধের চেষ্টা চালায়। কিন্তু প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর কোনো গোল হয়নি। ১-০ গোলের ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা উপহার দেয় চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা। হাফ টাইমের পর ১৬ মিনিটে মহিবুল গোল করে দলের ব্যবধান ২-০ করেন। এরপর গোলের ব্যবধান কমাতে দর্শনা পৌরসভা বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালালেও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার গোলরক্ষক তা প্রতিহত করে। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের ব্যবধানেই ম্যাচ শেষ হয়। ফলে টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে প্রবেশ করে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা।
মাঠে উপস্থিত দর্শকদের উচ্ছ্বাস, দুই দলের খেলোয়াড়দের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ এবং ধারাভাষ্যকার ইসলাম রাকিব ও শামীম খানের প্রাণবন্ত ধারাভাষ্যে পুরো ম্যাচটি আরও জমজমাট হয়ে ওঠে।
এর আগে বিকেল চারটায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম. তারিক-উজ-জামান।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তিথি মিত্রের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংরক্ষিত মহিলা-৫ আসনের সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলী, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব আব্দুল আল মারুফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকি এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম. তারিক-উজ-জামান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পরে অনুষ্ঠানের মধ্যমণি প্রধান অতিথি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি সংরক্ষিত মহিলা-৫ আসনের সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পরে অতিথিরা মাঠে প্রবেশ করে দুই দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন এবং তাদের অনুপ্রাণিত করেন। এরপর প্রধান অতিথি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী টস করেন। টসে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা জয়লাভ করে।
টসের পর বেলুন ও শান্তির প্রতীক পাঁয়রা উড়িয়ে এবং ফুটবলে কিক দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এসময় টুর্নামেন্ট উপলক্ষে পরিবেশিত থিম সং-এর সঙ্গে ডিসপ্লে ও নৃত্য পরিবেশন করেন জেলার শিল্পীরা। এবারের জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে জেলার চারটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভা মিলিয়ে মোট আটটি দল অংশগ্রহণ করছে। প্রতিটি দলে অতিথি খেলোয়াড় হিসেবে বিদেশি ফুটবলার খেলার সুযোগ রাখা হয়েছে। উদ্বোধনী ম্যাচে ২-০ গোলের জয় দিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
