ছবির ক্যাপশন:
চলতি আমন আবাদ ও শীতকালীন আগাম সবজি চাষের মৌসুমে ঝিনাইদহজুড়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে অসাধু সার ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট। সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ২৭ টাকার টিএসপি সার খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। একইভাবে ইউরিয়া, এমওপি ও ডিএপি সার কিনতেও চড়া দাম দিতে হচ্ছে প্রান্তিক কৃষকদের। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলার কৃষকেরা।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকলেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তা রাতের আঁধারে খোলাবাজারে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ডিলারদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কৃষকদের অভিযোগের তালিকায় সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের ডিলার মিলন কুমার ঘোষ, সুরাট ইউনিয়নের আনোয়ারুল ইসলাম, ফুরসন্ধি ইউনিয়নের মুন্সি আবু জাফর, মধুহাটী ইউনিয়নের বাজারগোপালপুরের আলাউদ্দীন, হলিধানী ইউনিয়নের গোলাম মোস্তফা ও হরিশঙ্করপুর ইউনিয়নের আশরাফুল ইসলাম টিটোর নাম রয়েছে। এছাড়া শৈলকুপা পৌরসভার ডিলার আবু তালেব মিঞা, ত্রিবেণী ইউনিয়নের জাফর মোল্ল্যা, মির্জাপুর ইউনিয়নের হাকিম মোল্ল্যা, আবাইপুর ইউনিয়নের গোলাম নবী এবং হরিণাকুণ্ডু পৌরসভার ডিলার মাহবুব হোসেন, কাপাসাটিয়া ইউনিয়নের সোনা জোয়ার্দার ও চাঁদপুর ইউনিয়নের উত্তম কুমার ঘোষের বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে ও গোপনে বাড়তি দামে সার বিক্রির সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা।
অভিযোগ রয়েছে, চণ্ডীপুর বাজারের মিলন এন্টারপ্রাইজ ও হরিশঙ্করপুরের আশরাফুল আলম টিটোর সার বিক্রয়কেন্দ্রে কোনো ক্যাশ মেমো ছাড়াই বাড়তি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে। তবে ডিলাররা ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির দায় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডিলার পয়েন্ট থেকে খালি হাতে ফিরে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে খোলাবাজার থেকে বাড়তি দামে সার কিনছেন। সদর উপজেলার বালিডাঙ্গা গ্রামের কৃষক গোলাম নবী বলেন, চার বিঘা জমিতে সবজি চাষের জন্য সরকারি দামে টিএসপি সার না পেয়ে অন্য মাধ্যমে ৫০ টাকা কেজি দরে সার কিনতে হয়েছে।
শৈলকুপার রানীনগর গ্রামের কৃষক ইসহাক আলী অভিযোগ করেন, লাইনে দাঁড়িয়েও সার পাওয়া যায় না। অথচ চড়া দাম দিতে পারলেই সেই সার পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা কৃষি অফিসার শরীফ তিতুমিরের বিরুদ্ধে অসাধু ডিলারদের প্রশ্রয় দেওয়া এবং অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সার সংকট তৈরির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ সার সিন্ডিকেট ভেঙে অভিযুক্ত ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
জেলা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হাজী জাহাঙ্গীর বলেন, অতিরিক্ত দাম নেওয়া ডিলারদের তালিকা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কৃষি বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে এবং জরিমানাও করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, সারের অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়ার পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে। দ্রুত নতুন ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে এ সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
