জীবননগরে তালাকের পরও রেহাই নেই অসহায় তরুণার

হামলা-লুট ও চেক মামলার অভিযোগ

আপলোড তারিখঃ 2026-09-12 ইং
জীবননগরে তালাকের পরও রেহাই নেই অসহায় তরুণার ছবির ক্যাপশন:

জীবননগরে দীর্ঘদিনের দাম্পত্য নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে তালাক নেওয়ার পরও নিরাপদে থাকতে পারছেন না তরুণা। সাবেক স্বামী ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে হামলা, আমবাগান কেটে দেওয়া, ঘরে ঢুকে টাকা ও মালামাল নিয়ে যাওয়া এবং চেক নিয়ে মামলা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তার বিধবা মা। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তিনি।


তরুণার বাড়ি জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের ধোপাখালি গ্রামে। তার বাবা মৃত আব্দুল কালাম কালু। প্রায় ১০-১১ বছর আগে একই গ্রামের জমশের আলীর ছেলে সোহেলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তরুণার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।


তরুণার মায়ের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন সোহেল। সন্তান হওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। প্রায় ৯ বছর নানা কষ্ট সহ্য করার পর শেষ পর্যন্ত মেয়ের সংসার ভেঙে দিতে বাধ্য হন তারা। তবে তালাকের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তরুণার মা।


তার দাবি, একপর্যায়ে সোহেল তাদের প্রায় দেড় বিঘা আমবাগান কেটে দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি পালিয়ে যান। এরপর নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা জীবননগরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। তরুণার মায়ের অভিযোগ, তারা বাড়িতে না থাকার সুযোগে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ ৭৫ হাজার টাকা, বিক্রির জন্য রাখা শাড়ি, কাপড়, থ্রি-পিসসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। একই সময় তার বড় মেয়ের জামাইয়ের দুটি ব্যাংকের স্বাক্ষর করা চেকবইও নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।


এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা আদালতে লিখিত অভিযোগ করেন তরুণার পরিবার। পরে সোহেলের বড় ভাইসহ স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি নিয়ে সালিশ-বৈঠক করেন। সেখানে চেকবই ও অন্যান্য মালামাল ফেরত দেওয়ার কথা বলা হলেও সোহেল আত্মগোপনে থাকায় তা আর বাস্তবায়ন হয়নি বলে দাবি পরিবারের।


তরুণার মায়ের আরও অভিযোগ, পরে তাদের অগোচরে ওই চেক ব্যবহার করে তার জামাইসহ দুজনের বিরুদ্ধে প্রায় ১৮ লাখ টাকার মামলা করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, তারা কোনো অন্যায় করেননি। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


এর আগে তরুণার ওপর হামলারও অভিযোগ করেছে পরিবার। তাদের দাবি, একপর্যায়ে বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তরুণাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তাকে মৃত ভেবে হামলাকারী পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এসময় তার মাথায় ছয়টি সেলাই দিতে হয় বলে জানিয়েছে পরিবার। এ ঘটনায় জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলেও দাবি তাদের।


এদিকে, স্বামীকে হারানোর পর দুই মেয়েকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কষ্টে সংসার চালিয়ে আসছেন তরুণার মা। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য অনেক চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। এখন মেয়ের ওপর হামলার আতঙ্ক, মামলা ও আর্থিক ক্ষতির চাপ- সব মিলিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার।


কান্নাজড়িত কণ্ঠে তরুণার মা বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্ট করে মেয়েদের বড় করেছি। মেয়ের সংসারও টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এত নির্যাতন সহ্য করার পর বাধ্য হয়ে তালাক নিতে হয়েছে। এখন তালাকের পরও আমরা নিরাপদে থাকতে পারছি না। আমরা প্রতিশোধ চাই না, সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।’


পরিবারটির দাবি, তরুণার ওপর হামলা, আমবাগান কেটে দেওয়া, ঘরে প্রবেশ করে টাকা ও মালামাল নেওয়া এবং চেক ব্যবহার করে মামলা করার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অসহায় পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)