ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা গণপূর্ত কার্যালয় ক্যাম্পাসের একটি সরকারি আবসিক ভবনে ঢুকে এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীর পরিবারকে কুপিয়ে সর্বস্ব লুট চেষ্টার খবর পাওয়া গেছে। এসময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন গৃহকর্তার স্ত্রী শরীফা আক্তার (৪০) ও তাঁর স্কুল পড়ুয়া কন্যা। হামলার পর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা গিয়ে এক হামলাকারীকে হাতেনাতে ধরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। আটক হওয়া মহিলার নাম মোছা. রাফিয়া, তিনি চুয়াডাঙ্গা কুলচারা গ্রামের রাজিব আহম্মেদের স্ত্রী।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শামীম ফেরদৌস কর্মস্থলে বা বাড়ির বাইরে অবস্থান করার সুযোগে এক দুষ্কৃতকারী তার সরকারি বাসায় প্রবেশ করে। পরিকল্পিতভাবে সে সময় ঘরে থাকা প্রকৌশলী মো. শামীম ফেরদৌসের স্ত্রী শরীফা আক্তার এবং তার ছোট মেয়েকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। দেশীয় ধারালো অস্ত্রের (দা) আঘাতে গৃহবধূর মাথা, হাত ও পিঠে মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হয়। আহত মা ও মেয়ে চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বাড়িতেই আছেন।
আহত শরীফা আক্তার বলেন, ‘রাফিয়া আমার বড় মেয়ের চাচাতো ননদ। প্রথমে সে এমনভাবে বাসায় ঢুকেছে, যে বোঝা যায়নি। পরবর্তীতের তার আচরণ ও আমাকে দা দিয়ে বারবার কোপ দেবার পর আমি বুঝেছি। তখন আমার ছোট মেয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে প্রতিবেশীদের ডাকলে তারা এসে আমাদের উদ্ধার করে। আমার ছোট মেয়েও আঘাত পেয়েছে। সে একটি দা হাতে করে নিয়ে এসেছিলো। ওইটা আমি কেড়ে নিলে আমাদের বাড়ির বটি দিয়েও আমাকে আঘাত করে। লোকজন এসে আমাদের উদ্ধার না করলে আমরা মারা যেতাম।’ অভিযোগ উঠেছে, প্রকৌশলী মো. শামীম ফেরদৌসের বড় মেয়ের বিয়ের নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ রহমান বলেন, ‘ধৃত নারীকে হেফাজতে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঠিক কী উদ্দেশ্যে এবং এর পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আইনগত বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’
