ছবির ক্যাপশন:
দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর মল্লিকপাড়ায় ভাতিজার নিজ নামের ভিটা জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ তুলেছে চাচার বিরুদ্ধে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বারবার সালিশে জমি ছেড়ে দেওয়ার কথা বললেও জমি না দিয়ে টালবাহানা করায় গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর মল্লিকপাড়ায় মৃত জলিলের ছেলে জহিরুল ইসলাম তার বাবার নামের দলিলে উল্লেখিত ৩০৯৮ খতিয়ানে দলিল নম্বর ৫১৭ তারিখ ১৯৮৫ সালে ৫৮৩০ দাগে ০.৫৮৩ জমির মধ্যে ০.০২৩০০ শতক জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। উত্তরসূরী হিসেবে জলিলের ছেলে জহিরুল ইসলামের নামে খারিজ হয়েছে।
দামুড়হুদা উপজেলা জয়রামপুর গ্রামের মল্লিকপাড়ার মৃত হোসেন মল্লিকের ছেলে ও জহিরুল ইসলামের চাচা শুকুর আলী দীর্ঘদিন ধরে এই জমি জোর করে দখল করে আছে। জহিরুল ইসলামের মা মোছা. রহিলা খাতুন ১৪ জুলাই দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করলে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জমি ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করে একটি আপস-মীমাংসার লিখিত চুক্তি হয়। পরে বাড়ি এসে সেই জমি না দিয়ে জোরপূর্বক ইটের দেওয়াল দিয়ে ঘিরে নেয়। এতে গ্রামের মানুষ শুকুর আলীর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে আবার এলাকার সাধারণ মানুষ সালিস বসিয়ে সেই জমি কিনে নেওয়ার জন্য স্ট্যাম্পে লেখাপড়া করে। সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে কিছু দিন পরে তা অস্বীকার করে।
জহিরুল বলেন, আমার বাবার জমি আমার নামে খারিজ হওয়ার পরও আমাকে জমি দিচ্ছে না আমার চাচা। আমি এখন পরের জমিতে বসবাস করি। আমি যাতে আমার জমি ফিরে পাই তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আমার আকুল আবেদন।
জহিরুলের মা রাহিলা খাতুন বলেন, আমার স্বামী মারা গেছে ২৬ বছর। সেখান থেকেই আমি পরের জমিতে ঘর তুলে দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করে তাদের মানুষ করেছি। আমরা যেখানে বসবাস করছি সেখান থেকে তুলে দিলে আমার ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কোথায় যাব? আমাদের জমি ছেড়ে দিলে আমরা মাথা গোঁজার ঠাই পাবো।
দামুড়হুদা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, এই জমির দলিল জহিরুলের বাবার কেনা জমি। আর এই জমি শুকুর আলী দখল করে বসে আছে। চরম খারাপ প্রকৃতির লোক এই শুকুর আলী। এবার এই জমি না ছাড়লে গ্রামবাসী শুকুর আলীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করবে।
দামুড়হুদা উপজেলার ওলামা দলের সহসভাপতি ও সাবেক মেম্বার জব্বার আলী বলেন, এই জমি জহিরুলের বাবার নামে ছিল। তার বাবা মরে যাওয়ার পর জহিরুলের নামে খারিজ হয়েছে। আমরা গ্রামবাসী মিলে বারবার সালিশ করলে শুকুর আলী জমি ছেড়ে দেওয়ার কথা বললেও তা আর ছাড়ে না। এই শুকুর আলীর উপযুক্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিন বলেন, ভুক্তভোগীকে জমির কাগজপত্র নিয়ে আমার কাছে আসলে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
