আলমডাঙ্গায় হাজী বিরিয়ানি হাউজের বিরিয়ানি খেয়ে

একই পরিবারের ৩ সদস্যসহ ৯ জন অসুস্থ

আপলোড তারিখঃ 2026-09-03 ইং
আলমডাঙ্গায় হাজী বিরিয়ানি হাউজের বিরিয়ানি খেয়ে ছবির ক্যাপশন:

আলমডাঙ্গা পৌর শহরের হাইরোডে হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে কেনা বিরিয়ানি খেয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যসহ অন্তত ৯ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তীব্র পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাঁরা বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই দোকানের বিরিয়ানি খাওয়ার পরই তাঁদের অসুস্থতার সূত্রপাত হয়।


ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত সোমবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে আলমডাঙ্গা থানা-সংলগ্ন হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে পৃথক সময়ে কয়েকটি পরিবার বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে নিয়ে যায়। রাতে পরিবারের সদস্যরা ওই খাবার খাওয়ার পর মধ্যরাত থেকেই একে একে শুরু হয় পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরদিন মঙ্গলবার তাঁদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


অসুস্থদের মধ্যে রয়েছেন আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের জোড়গাছা গ্রামের ফারুক হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (২৭) এবং তাঁদের দুই সন্তান তাওহিদ (২) ও তাওসিফ (৮)। এছাড়া জেহালা ইউনিয়নের রোয়াকুলি গ্রামের জিনারুল ইসলাম (৪৬), তাঁর স্ত্রী পান্না খাতুন (৪২) ও ছেলে সাহেদ (১৩) এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের একই পরিবারের আরও তিন সদস্য হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।


ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন বলেন, অফিস শেষে আলমডাঙ্গার হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। রাতে স্ত্রী ও দুই সন্তান ওই খাবার খাওয়ার পর রাত ১২টার পর থেকেই তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে সকালে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি আরও বলেন, ‘বিরিয়ানি খাওয়া ব্যক্তিরাই অসুস্থ হয়েছেন। খাবারে কোনো সমস্যা ছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার।’


আরেক ভুক্তভোগী জাহিদ হোসেন জানান, আলমডাঙ্গায় ঘুরতে গিয়ে ফেরার সময় তিনি দুই প্যাকেট বিরিয়ানি কিনেছিলেন। বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেই খাবার খাওয়ার পর তাঁরাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। একই খাবার খেয়ে একাধিক ব্যক্তি অসুস্থ হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করা উচিত বলে দাবি করেন তিনি।


এদিকে, আলমডাঙ্গার বিভিন্ন বিরিয়ানি হাউজ ও খাবারের দোকানে খাদ্যের মান, সংরক্ষণ পদ্ধতি ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠানেই খাবার সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মানা হয় না। একই সঙ্গে নিয়মিত খাদ্য তদারকির ঘাটতিও রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


শুধু তাই নয়, নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, কিছু খাবারের দোকানে খাসির মাংসের নামে তুলনামূলক কমদামি পাটি ছাগলের মাংস পরিবেশনের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভোক্তারা।


সাইদুল ইসলাম নামে এক মার্কেটিং কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শুধু আলমডাঙ্গা শহরের মধ্যেই নয়, পাশের হাটবোয়ালিয়ার হোটেলগুলোর অবস্থা দেখলেও মনে হয় জেলায় ভোক্তা অধিকার বলতে কিছু নেই। একটা ঘটনা ঘটবে, মানুষ অসুস্থ হবে, তারপর প্রশাসনের টনক নড়বে- আগে থেকে কোনো কার্যকর তদারকি থাকে না। যেখানে মাছি, আবর্জনা, পচা দুর্গন্ধযুক্ত খাবার প্রতিনিয়ত বিক্রি করছে হোটেলগুলো।’


চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, ‘আলমডাঙ্গা থেকে শিশুসহ ৯ জন বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরিয়ানি খাওয়ার পরই তাঁদের অসুস্থতা শুরু হয়েছে।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)