ছবির ক্যাপশন:
দামুড়হুদায় বিচালি কাটার মেশিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের কালিয়াবকরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- কালিয়াবকরী গ্রামের মাদার মণ্ডলের ছেলে লিটন আলী (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী নিপা খাতুন (৩০)। তাঁদের দুটি ছোট কন্যাশিশু রয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গবাদিপশুর জন্য বিচালি কাটতে মেশিন প্রস্তুত করছিলেন লিটন আলী। এসময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। স্বামীকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে দেখে তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন স্ত্রী নিপা খাতুন। এসময় তিনিও বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
একসঙ্গে জীবন শুরু করেছিলেন তাঁরা। অথচ বিদায়ের সময়ও হলো একসঙ্গে। স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে স্ত্রীও প্রাণ হারানোয় হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় কালিয়াবকরী গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
স্থানীয়রা জানান, একই সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর এমন ঘটনা এ গ্রামে আগে কখনো ঘটেনি। তাঁদের মৃত্যুতে পুরো গ্রামেই শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। বাবা-মাকে হারিয়ে দুই ছোট কন্যাশিশু এখন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। পরে নিহত স্বামী-স্ত্রীকে গ্রামের কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়। পাশাপাশি দুটি কবর যেন তাঁদের জীবনের শেষ অধ্যায়েরও একসঙ্গে থাকার সাক্ষী হয়ে রইল।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
