ছবির ক্যাপশন:
দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের সুবুলপুর স্লুইসগেটে কনটেন্ট তৈরির নামে নারীদের নিয়ে অশ্লীল ও আপত্তিকর মন্তব্য করে ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে মনিরুল ইসলাম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন স্লুইসগেটে বেড়াতে আসা দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি সুবুলপুর স্লুইসগেটে নারীদের উপস্থিতিতে কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর মনিরুল ইসলাম অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং নারীদের শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এসময় তিনি এসব কথাবার্তা ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দর্শনার্থীদের অভিযোগ, একটি উন্মুক্ত ও পারিবারিক বিনোদনকেন্দ্রে এ ধরনের অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে ভিডিও ধারণ করা শুধু পরিবেশের সৌন্দর্য্য নষ্ট করছে না, বরং সেখানে বেড়াতে আসা নারী ও পরিবারগুলোর মধ্যেও অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, কনটেন্ট তৈরির নামে মনিরুল ও তার সহযোগীরা নারীদের সামনে অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলেন এবং বিভিন্নভাবে ভিডিও ধারণ করেন। পরে এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এতে অনেক নারী ও পরিবার সুবুলপুর স্লুইসগেটে ঘুরতে আসতে অস্বস্তি বোধ করছেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, শুধু মনিরুল নয়, সম্প্রতি কিছু উঠতি টিকটকার ও কনটেন্ট নির্মাতাও স্লুইসগেটে বেড়াতে আসা নারীদের অনুমতি ছাড়াই দূর থেকে জুম করে ভিডিও ধারণ করছেন। পরে সেই ভিডিও টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে নারীদের সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
দর্শনার্থীদের ভাষ্য, সুবুলপুর স্লুইসগেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ ও পরিবার নিয়ে মানুষ এখানে আসেন। কিন্তু কনটেন্ট তৈরির নামে কারও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সম্মান ক্ষুণ্ন করা হলে পর্যটকদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই বিনোদনকেন্দ্রটিকে নিরাপদ ও পরিবারবান্ধব রাখতে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগা মাধ্যমে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল বলছেন, কনটেন্ট তৈরির স্বাধীনতা থাকলেও কারও সম্মান, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অধিকার কারও নেই। তাই অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সুবুলপুর স্লুইসগেটকে নারী ও পরিবারসহ সব ধরনের দর্শনার্থীর জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
