ছবির ক্যাপশন:
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান পরিষ্কার করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, ভারতে আশ্রয় নিয়ে পলাতক শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ সম্মেলন করছেন, আবার একই সময়ে ভারত বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছে। এই দ্বিমুখী নীতি গ্রহণযোগ্য নয়। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারত যদি বাংলাদেশে পালিয়ে থাকা সব আসামিকে ফিরিয়ে দিতে ইতিবাচক মনোভাব দেখায়, তবেই কেবল প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করতে পারেন। দেশের মানুষের প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না উল্লেখ করে রাশেদ বলেন, "বাংলাদেশের সঙ্গে প্রকৃত বন্ধুত্ব চাইলে ভারতকে অবশ্যই এ দেশের জনগণের স্বার্থ দেখতে হবে। অবিলম্বে সীমান্ত হত্যা এবং পুশ-ইন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।"
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতা সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বানচাল করতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে চক্রান্তে লিপ্ত ছিলেন বলে গুরুতর অভিযোগ তোলেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের চরম মুহূর্তে তৎকালীন মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করলেও আজ তারা নিজেদের গণ-অভ্যুত্থানের মূল নায়ক হিসেবে দাবি করছেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাশেদ খান কঠোর ভাষায় বলেন, "২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সারজিস ও হাসনাত আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে গোপন বৈঠকে বসেছিলেন। আজ তারা বড় বড় কথা বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করছেন। কিন্তু ইতিহাস সত্য কথা বলে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এই সারজিস ও হাসনাতরাই 'এক দফা' দাবি চাননি।" এনসিপি তাদের আদর্শচ্যুত হয়ে জামায়াতের রাজনীতিতে বিলীন হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খানের সঙ্গে এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস এবং শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ উপস্থিত ছিলেন।
