ছবির ক্যাপশন:
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, পুরস্কার বিতরণ ও বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের আয়োজনে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ, জীবনী ও মানবতার শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং তাঁর দেখানো পথে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়। কর্মসূচি শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা:
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উদ্যাপন উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক চুয়াডাঙ্গা বাকী বিল্লাহ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনীর ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। তিনি বলেন, হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন শান্তির দূত। তায়েফের মাঠে রক্তাক্ত হয়েও তিনি শত্রুদের জন্য বদ দোয়া না করে হেদায়েতের দোয়া করেছেন, আর মক্কা বিজয়ের দিন চরম শত্রুদেরও কোনো প্রতিশোধ না নিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা করে দিয়েছেন। পুরো আরব জাহানের রাষ্ট্রপ্রধান হয়েও তাঁর মধ্যে কোনো অহংকার ছিল না। কখনো পেট পুরে বিলাসিতাপূর্ণ খাবার খেতেন না। ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন আপসহীন। নিজের প্রিয় কোনো ব্যক্তি হলেও তিনি বিচারে চুল পরিমাণ পক্ষপাতিত্ব করতেন না। মহানবী (সা.) দাস-দাসী ও শ্রমিক ভাইয়ের মর্যাদা দিয়েছেন, নারীদের দিয়েছেন সর্বোচ্চ সম্মান এবং পশু-পাখির প্রতিও দয়া দেখানোর কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এক কথায়, হিংসা, বিদ্বেষ ও অন্ধকারে ডুবে থাকা এক সমাজকে তিনি কেবল ভালোবেসে, ক্ষমা করে এবং সত্যের পথ দেখিয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিময় ও আদর্শ সমাজে পরিণত করেছিলেন।
মহানবী (সা.)-এর দেখানো পথে জীবনধারণের বিষয়ে বক্তব্য দেন কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী রিফা মাহাদী ও ঝিনুক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস রোজা। আলোচনা সভায় বক্তারা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও শিক্ষা দৈনন্দিন জীবনে অনুসরণের আহ্বান জানান। আলোচনা পর্ব শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হুমায়ুন কবীর, সিনিয়র সহকারী কমিশনার এস এম আশিস মোমতাজ, সহকারী কমিশনার ফাহাদ চৌধুরী, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মন্ডল, টিটিসির অধ্যক্ষ মোছাব্বেরুজ্জামান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রানা, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, জেলা জাসাসের সভাপতি শহিদুল বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেছ উদ্দিন প্রমুখ।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদ্যাপন করা হয়েছে। গত বুধবার জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে চুয়াডাঙ্গা জেলা মডেল মসজিদে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সনদ ও পুরস্কার বিতরণ, আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম. খালিদ হোসেন সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন তানজিল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন মুস্তাফিজুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ.বি.এম. খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের ছোট ছোট আদর্শ আমাদের অনুসরণ করা উচিত। তাঁর সুন্নতের মধ্যে মুচকি হাসা, সুন্দরভাবে ও ধীরে কথা বলার মতো বিষয়গুলোও আমাদের জীবনে ধারণ করতে হবে। ছোট ছোট অপরাধের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয় হয়ে উঠছি এবং অনেক সময় অন্যকে কষ্ট দেওয়ার জন্য নানা ধরনের কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে আমরা কোথাও না কোথাও দুর্বল হয়ে পড়ছি। তা না হলে সন্তানদের মধ্যে এত অবাধ্যতা দেখা দেওয়ার কথা নয়। আমাদের সময়ে বাবা-মায়ের শাসন ছিল, তাই আমরা এভাবে বেড়ে উঠিনি। সন্তানদের দোষারোপ না করে তাদের সঠিকভাবে শাসন ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্ব অভিভাবকদের নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিভিন্ন ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়। ক্বিরাত প্রতিযোগিতায় গ্রুপ-ক-তে প্রথম হন চুয়াডাঙ্গা আল মদিনা ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদরাসার সাওদা নূর সাবা, দ্বিতীয় বদরগঞ্জ বাকী বিল্লাহ কামিল মাদরাসার তানজিল ইসলাম এবং তৃতীয় চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদরাসার খালিদ বিন ওয়ালিদ। হামদ-নাত প্রতিযোগিতায় গ্রুপ-ক-তে প্রথম হন চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের টুসানুর রহমান বিজয়া, দ্বিতীয় চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মুহতাশিম হোসেন এবং তৃতীয় চুয়াডাঙ্গা বাকী বিল্লাহ কামিল মাদরাসার জান্নাতুল ফিরদাউস। উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় গ্রুপ-খ-তে প্রথম হন চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নিলিমা তাবাছুম, দ্বিতীয় চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদরাসার রহিমা আক্তার এবং তৃতীয় খাদিজার রহমান ওহি।
কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় গ্রুপ-খ-তে প্রথম হন চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদরাসার খাদিজার রহমান ওহি, দ্বিতীয় চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নিলিমা তাবাছুম এবং তৃতীয় সরোজগঞ্জ যুগীরহুদা আবুল হোসেন দাখিল মাদরাসার মাহমুদুর রহমান। রচনা প্রতিযোগিতায় গ্রুপ-গ-তে প্রথম হন সরোজগঞ্জ যুগীরহুদা আবুল হোসেন দাখিল মাদরাসার সুমাইয়া খাতুন, দ্বিতীয় চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদরাসার জুবায়ের হোসেন আফ্রিদী এবং তৃতীয় একই মাদরাসার খাদিজাতুল কোবরা। চুয়াডাঙ্গা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার আব্দুল হাকিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা মীর জান্নাত আলী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মুহাম্মদ আল মামুনসহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সবশেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাস্টার ট্রেইনার আমির হোসেন।
জীবননগর:
জীবননগরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের আয়াজনে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি। এদিকে জীবননগরে সিরাতুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জীবননগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে গত বুধবার বিকেল ৫টায় জীবননগর পাইলট মাধ্যমিক গেট হতে বাজার প্রদক্ষিণ করে হাইস্কুল গেটে এসে র্যালিটি শেষ হয়। হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম-মৃত্যু দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর জাতীয়ভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার মধ্যদিয়ে যথাযথ মর্যাদায় ধর্মীয় গাম্ভীর্য্য পরিবেশে সিরাতুন্নবী (সা.) পালিত হয়। এই র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা ইসরাইল হোসেন, উপজেলা নায়েবে আমির হাফেজ বিল্লাল হোসেন, সেক্রেটারি মাফুজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, প্রচার সম্পাদক হারুন অর রশিদ, উপজেলা যুব বিভাগের মাজেদুর রহমান লিটন, পৌর সভাপতি মাওলানা ফিরোজ হোসেন, হাসাদাহ ইউনিয়ন আমির আকতারুজ্জামান প্রমুখ।
মেহেরপুর:
আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণের মধ্যদিয়ে মেহেরপুরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়েছে। মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতিকুল হক, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন, জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক আব্দুস সাত্তার এবং বড়বাজার জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম মুফতি বায়াজিদ হোসেনসহ অন্যরা। এর আগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
মুজিবনগর:
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ২০২৬ ও হিজরি ১৪৪৮ উপলক্ষে মেহেরপুরের মুজিবনগরে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার বেলা ১১টায় মুজিবনগর উপজেলা পরিষদ হলরুমে জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুপায়ন দেব। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু শাহামা, মুজিবনগর থানার তদন্ত কর্মকর্তা সেলিম রেজা, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, উপজেলা ইমাম কমিটির সভাপতি তৌহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আলোচনা সভায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন, আদর্শ ও মানবতার শিক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা মহানবীর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর মঙ্গল কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
ঝিনাইদহ:
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ঝিনাইদহে জমিয়তে জাকিরিন ও মোজাদ্দেদ মিশনের যৌথ উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস (আনন্দ র্যালি) ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গত বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের নানা প্রান্ত থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে হাতে জশনে জুলুসের ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে শত শত মানুষ এই আনন্দ র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। বর্ণাঢ্য র্যালিটি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালি শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে সাবেক সহকারী অধ্যাপক মাওলানা হাসান মাহমুদ বলেন, পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উদযাপন কেবল কোনো প্রথাগত বা সাময়িক বিষয় নয়, বরং এটি সুন্নতে ইলাহী, সুন্নতে আম্বিয়া, সুন্নতে রাসুল ও সুন্নতে আওলিয়া। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তাআলার সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ নিয়ামত এবং রাহমাতুল্লিল আলামীন হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.)-এর দুনিয়ায় আগমন উপলক্ষে ভক্তিভরে শোকরগুজারি করা সর্বস্তরের মুমিনের ঈমানি দায়িত্ব। কাজেই মিলাদুন্নবীর বিরোধিতা করা মানেই আল্লাহ পাকের বিরোধিতা করা।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা আল মাহাদি লিপইয়ার, মাওলানা মাজেদুল ইসলাম, মাওলানা আশরাফুল ইসলাম, হাফেজ মো. ওবায়দুল্লাহ, মাওলানা আনোয়ার হোসেন, হাফেজ মাওলানা আতিকুর রহমান, মাওলানা আব্দুল্লাহ সিয়াম খোকা, রফিকুল ইসলাম, আব্দুস সাত্তার, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আসিফ কাজল, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এস এম বিল্লাহ রিন্টু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রফিক আহমাদ, জাহাঙ্গীর কবির তুহিন ও রেজাউল ইসলাম। সমাবেশ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন মাওলানা হাসান মাহমুদ। দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে শহর জুড়ে মিষ্টি, খেজুর ও পানি বিতরণ করা হয়। এছাড়া জমিয়তে জাকিরিন ও মোজাদ্দেদ মিশনের উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বিতরণ করা হয়।
