মেহেরপুরে ধর্ষণ মামলার রায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা কালু মেম্বারের যাবজ্জীবন

আপলোড তারিখঃ 2026-08-24 ইং
মেহেরপুরে ধর্ষণ মামলার রায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা কালু মেম্বারের যাবজ্জীবন ছবির ক্যাপশন:

মেহেরপুরে ধর্ষণ মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. কলিম উদ্দিন ওরফে কালুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালতের রায় ঘোষণার সাথে সাথে আসামি কালু জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে পুলিশ তাকে হাতেসঙ্গে ধরে নিয়ে পুলিশের গাড়িতে করে হাজতে নেন।

গতকাল রোববার বেলা পৌনে ২টার দিকে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত কলিম উদ্দিন ওরফে কালু মেম্বর মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মজলের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে খাবার খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি হিসেবে মশারি টাঙাচ্ছিলেন ওই নারী। এসময় আসামি কলিম উদ্দিন ওরফে কালু পেছন থেকে তাকে জাপটে ধরে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন সকালে ওই নারীর মা পারভীনা খাতুন বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ১০২।

মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের রায় দেন। একই সঙ্গে রায়ের পর আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন। আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম শাহীন, তরুণ কুমার ও অ্যাডভোকেট একেএম শফিকুল আলম।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, আসামি কলিম উদ্দিন ওরফে কালু প্রভাবশালী হওয়ায় মামলার সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসতে ভয়ভীতি দেখিয়েছিলেন। এমনকি মামলার বাদীকেও হুমকি দিয়ে মামলা আপস করতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। তিনি আরও বলেন, আসামির ডিএনএ পরীক্ষা ও ভুক্তভোগী নারীর শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক, অপরাধ করে কেউ আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না-এই রায়ের মাধ্যমে সেটিই প্রমাণিত হয়েছে।

আদালতের রায়ে বলা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত-২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় গঠিত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে ওই ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায়ে আরও বলা হয়, আসামির ওপর আরোপিত পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। বর্তমান সম্পদ থেকে ওই অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে আসামি যে সম্পদের মালিক বা অধিকারী হবেন, সেখান থেকে তা আদায় করা হবে। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য দাবির তুলনায় ক্ষতিপূরণের দাবি অগ্রাধিকার পাবে।

এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৬ ধারার বিধান অনুযায়ী আসামির স্থাবর-অস্থাবর বা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ বিক্রি করে অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিপূরণের অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা হওয়ার পর তা ভুক্তভোগীকে প্রদান করা হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)