ছবির ক্যাপশন:
'বোমা হোসেন'—যার নাম শুনলেই কেঁপে উঠতেন ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। মেহেরপুরের গাংনীর অলিগলিতে যেখানে-সেখানে বিস্ফোরিত হতো বোমা ও পড়ে থাকত রহস্যময় বোমা সদৃশ বস্তু, আর তার নেপথ্যে ছিলেন এই একজন মানুষ—দাবি পুলিশের। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে থাকা হোসেন আলী ওরফে পিচ্চি হোসেন (৫০) ওরফে বোমা হোসেন অবশেষে ধরা পড়লেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে।
মো. হোসেন আলী ওরফে বোমা হোসেন গাংনীর পূর্ব মালসাদহ গ্রামের ওহিল উদ্দীনের ছেলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, হোসেন প্রায় ৮ বছর আগে এলাকা ত্যাগ করে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে চলে যায়।
তবে নিজ এলাকা থেকে বহুদূরে লুকিয়েও রেহাই পাননি তথ্যপ্রযুক্তির নজরদারি থেকে। গত বৃহস্পতিবার ভোরে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে অভিযান চালিয়ে গাংনী থানা-পুলিশের একটি টিম তাকে গ্রেপ্তারের পরই যেন খুলে যায় রহস্যের জট। জিজ্ঞাসাবাদে মুখ খোলেন হোসেন নিজেই। আর তার দেখানো পথ ধরে গত শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় পুলিশ হানা দেয় তার নিজের বাড়ি গাংনী উপজেলার পৌরসভাধীন পূর্ব মালসাদহ গ্রামে। সেখান থেকে উদ্ধার হয় আরও দুটি বোমা সদৃশ বস্তু—যেন নিজের ঘরেই লুকিয়ে রেখেছিলেন আতঙ্কের রসদ!
শুধু বোমা কাণ্ডই নয়, পিচ্চি হোসেন ও বোমা হোসেনের ফাইলে জমা আছে আরও ভারী অভিযোগ—দুটি হত্যা মামলাসহ সাতটি জিআর ওয়ারেন্ট! সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা দাবি করতো। তা পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করলে তার বাড়িতে বোমা হামলা করা হতো কিংবা বোমা রেখে আসতো।
গাংনী থানার ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এখানেই থামছে না—এবার লক্ষ্য তার বাহিনীর সহযোগীদের খুঁজে বের করা। প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, এই চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত।
