ছবির ক্যাপশন:
দামুড়হুদায় রাস্তার পাশে মলত্যাগকে কেন্দ্র করে বাড়িতে ঢুকে বাবা ও তাঁর দুই ছেলেকে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এতে শরিফ শেখ (৬৫), তাঁর ছেলে তারিক শেখ (৩২) ও আরিফুল শেখ (৩৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শরিফ শেখ ও আরিফুল শেখের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৬টার দিকে উপজেলার কালিয়াকরী গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে বলে থানায় দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত তারিক শেখ বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহার সূত্রে জানা যায়, কালিয়াকরী পশ্চিমপাড়ায় একটি ফ্ল্যাট সোলিং রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে বাদীপক্ষের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এরই মধ্যে রাস্তার পাশে মলত্যাগ করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার দিন সকালে অভিযুক্তরা কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দা, হাসুয়া, লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম নিয়ে শরিফ শেখের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় এক আসামির নির্দেশে অপর আসামি দা দিয়ে শরিফ শেখের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। পরে তাঁকে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তারিক শেখের মাথায় ধারালো হাসুয়া দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী। একই সময় তাঁর ভাই আরিফুল শেখ এগিয়ে এলে তাঁর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। আঘাত ঠেকাতে গিয়ে তাঁর ডান কব্জিতেও গুরুতর জখম হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
পরে আহত তিনজনকে লাঠি, কাঠের বাটাম ও লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়। তাঁদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের ইজিবাইকে করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শরিফ শেখ ও আরিফুল শেখকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
