ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার দুই পাশের ঝোপঝাড়, আগাছা ও লতাপাতা বেড়ে সড়কের ওপর ঝুঁকে পড়েছে। দীর্ঘদিন এসব পরিষ্কার না করায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সন্ধ্যার পর সড়কটি হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্ঘটনার পাশাপাশি ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় আতঙ্কে চলাচল করছেন পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আলমডাঙ্গা থেকে হাটবোয়ালিয়া পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে রাস্তার দুই পাশে ঘন ঝোপঝাড় ও আগাছা বেড়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও গাছের ডালপালা ও লতাপাতা রাস্তার ওপর পর্যন্ত ঝুঁকে রয়েছে। এতে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন অনেক সময় দূর থেকে দেখা যায় না। বিশেষ করে রাতের বেলায় এ পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্থানীয়রা জানান, আলমডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া সড়কটি প্রতিদিন ব্যবসায়ী, কৃষক, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ। এ ছাড়া আলমডাঙ্গা ও হাটবোয়ালিয়ার বিভিন্ন হাটে গরু ও কৃষিপণ্য নিয়ে ব্যবসায়ীদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে।
হারদী গ্রামের বালু ব্যবসায়ী তোতন বলেন, ‘প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। রাস্তার দুই পাশের ঝোপঝাড় এতটাই বেড়েছে যে, বিশেষ করে রাতে চলাচল করতে ভয় লাগে। বিপরীত দিক থেকে কোনো যানবাহন এলে অনেক সময় ঠিকমতো দেখা যায় না। দ্রুত ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা প্রয়োজন।’
হাটবোয়ালিয়ার গরু ব্যবসায়ী রকিবুল ইসলাম বলেন, আলমডাঙ্গার গরুর হাট ও বালিয়াপাড়া হাটে নিয়মিত গরু কেনাবেচা করি। হাটের কাজ শেষ করে অনেক সময় রাতে বাড়ি ফিরতে হয়। তখন রাস্তার দুই পাশের ঝোপঝাড়ের কারণে আতঙ্ক লাগে। অনেক জায়গায় ঝোপঝাড় রাস্তার ওপর ঝুঁকে থাকায় সামনে থেকে আসা যানবাহনও ঠিকমতো দেখা যায় না। ঝোপঝাড়ের আড়ালে অপরাধীরা আত্মগোপন করতে পারে। তাই দুর্ঘটনা ও ছিনতাইÑদুই ধরনের ঝুঁকিই রয়েছে। দ্রুত সড়কের দুই পাশ পরিষ্কার করা দরকার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পর সড়কের দুই পাশের আগাছা ও লতাপাতা দ্রুত বেড়ে যায়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও গাছের ডালপালা ছাঁটাই না করায় বর্তমানে অনেক জায়গায় ঝোপঝাড় ঘন হয়ে উঠেছে। এতে সড়কের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, দিনের বেলায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও সন্ধ্যার পর ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে হাট শেষে রাতে বাড়ি ফেরা ব্যবসায়ী, মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক চালকদের বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। রাস্তার বাঁকগুলোতে ঝোপঝাড়ের কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনও সহজে দেখা যায় না।
স্থানীয়রা মনে করছেন, দ্রুত সড়কের দুই পাশের ঝোপঝাড়, আগাছা ও রাস্তার ওপর ঝুঁকে থাকা ডালপালা অপসারণ করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত আলমডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া সড়কের ঝোপঝাড় পরিষ্কার, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ, প্রয়োজনীয় আলোর ব্যবস্থা এবং নিরাপদ রাত্রীকালীন চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
