আজ জীবননগরের স্থানীয় শহিদ দিবস

আপলোড তারিখঃ 2026-08-07 ইং
আজ জীবননগরের স্থানীয় শহিদ দিবস ছবির ক্যাপশন:

আজ ৭ আগস্ট, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের স্থানীয় শহিদ দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে ভারতের বানপুর থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল জীবননগর উপজেলার ধোপাখালী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অতর্কিত হামলা চালায়। এতে শুরু হয় তুমুল সম্মুখযুদ্ধ। ওই যুদ্ধে পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধা (ইপিআর সদস্য) শহিদ হন। পাল্টা প্রতিরোধে পাকিস্তানি বাহিনীরও সমানসংখ্যক সৈন্য নিহত হয় এবং মুক্তিবাহিনীর প্রবল প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।


ধোপাখালী সীমান্তের সেই যুদ্ধে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান জানান, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ৮ নম্বর সেক্টরের বানপুর সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন (পরবর্তীকালে সেনাবাহিনী প্রধান, প্রয়াত অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল) মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে লেফটেন্যান্ট মোস্তফা, ইপিআর সদস্য এবং স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল ৭ আগস্ট ভোরে ধোপাখালী সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করেন। দলে জীবননগরের ধোপাখালী গ্রামের আজহারুল করিম রেজু, রেজাউল করিম আলো, আবুল কাসেম, সদর আলী, রইচ উদ্দীন, দর্শনার আব্দুস সামাদ ও আক্তার হোসেন, জয়রামপুর গ্রামের সাইদুর রহমান, জীবননগরের নিজাম উদ্দীনসহ অনেকে অংশ নেন।


তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবেশের খবর স্থানীয় রাজাকাররা আগেই টের পেয়ে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে জানিয়ে দেয়। তখন এলাকার মানুষের কাছে আতঙ্কের প্রতীক হিসেবে পরিচিত পাক ক্যাপ্টেন মো. মুনছুর আলী বেলুচ রেজিমেন্টের সৈন্যদের নিয়ে ধোপাখালী বাজার মোড়ে ওঁৎ পেতে অবস্থান নেয়। মুক্তিযোদ্ধারা বাজারে প্রবেশ করতেই পাকিস্তানি বাহিনী অতর্কিত হামলা চালায়। প্রথমে মুক্তিযোদ্ধারা কিছুটা বিচলিত হলেও দ্রুত অবস্থান নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। এতে তুমুল যুদ্ধ বেঁধে যায়। যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর পাঁচজন সৈন্য নিহত হয় এবং তাদের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। তবে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ হন।


শহিদ পাঁচ বীর মুক্তিযোদ্ধা হলেন- হাবিলদার আব্দুল গফুর, নায়েক আব্দুর রশিদ, সিপাহী আবু বকর, সিপাহী আব্দুল আজিজ ও সিপাহী সিদ্দিক আলী। যুদ্ধ শেষে স্থানীয় গ্রামবাসী শহিদদের মরদেহ উদ্ধার করে। হাবিলদার আব্দুল গফুরকে ধোপাখালী মসজিদের পাশে এবং অপর চারজনকে ধোপাখালী-বানপুর সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে পাশাপাশি একটি কবরে দাফন করা হয়।


যুদ্ধের সম্মুখভাগে নেতৃত্বদানকারী ক্যাপ্টেন মোস্তাফিজুর রহমান পরবর্তীকালে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৪ সালের ২২ জানুয়ারি যশোর সেনানিবাসের জিওসি থাকাকালে জীবননগর সফরে এসে নিজ উদ্যোগে শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর বাঁধাই করে দেন। প্রতিবছরের মতো এবারও ৭ আগস্ট জীবননগরের স্থানীয় শহিদ দিবসে ধোপাখালী যুদ্ধের বীর শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)