ছবির ক্যাপশন:
‘জুলাই চেতনায় গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদ্যাপন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের অডিটরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটুর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শাসন আমাদের ওপর যে অত্যাচার-নিপীড়ন চালিয়েছে, তার অবসান হয়েছে ৫ আগস্টের মধ্যদিয়ে। আমরা একটি স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি, যেখানে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও প্রশ্ন করার সুযোগ রয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে বর্তমানে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্ট একদিনে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে জাতীয়তাবাদী দলের দুই হাজারেরও বেশি নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপির নেতা-কর্মীরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।’
শরীফুজ্জামান বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আমরা তা বাস্তবায়ন করছি। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ মসজিদের ইমামদের সম্মানজনক ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে।’ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের আরও সক্রিয় হতে হবে। প্রতিটি সরকারি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সরকারের দেওয়া রাষ্ট্রীয় সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করতে হবে। বিএনপি জনগণের সরকার।’
জেলা বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘আমি তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন কর্মী। তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ভাষা, অনুভূতি এবং কষ্ট আমি বুঝি। কারণ আমিও সেই জায়গা থেকেই উঠে এসেছি। আপনারা দলের জন্য কাজ করুন। আমি শরীফুজ্জামান শরীফ একদিনে এই অবস্থানে আসিনি, তৃণমূল থেকেই আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছি।’
আলোচনা সভা শেষে কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাহিত্য পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি কোর্ট মোড় হয়ে বড় বাজারের শহিদ হাসান চত্বরে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়। এসময় জুলাই শহিদদের স্মরণে এবং ফ্যাসিস্টদের অত্যাচার-নিপীড়নের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। পরে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের শহিদবেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন, জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সরদার আলী হোসেন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রউফ উন নাহার রিনা, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপটন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক পল্টু, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি রাফিতুল্লাহ মহলদার, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝণ্টু এবং জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা আনোয়ার হোসেন, জেলা জাসাসের সভাপতি শহিদুল হক বিশ^াস, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি শরিফুল আলম বিলাস, সাধারণ সম্পাদক এম. তালহা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল মাহমুদ, সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, সদস্যসচিব মহলদার ইমরান রিণ্টু, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক বিপুল হাসান হাজী, সদস্যসচিব আজিজুল হক আজিজুল, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাহাবুব হোসেন, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কৌশিক আহমেদ রানা এবং সদস্যসচিব মাজেদুল আলম মেহেদীসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
