সুন্দরবন এক্সপ্রেসের টিটিই-এর বিরুদ্ধে ট্রেনের যাত্রীদের ছুরিকাঘাতের অভিযোগ

প্রতিবাদ করার যাত্রীসহ পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার যাত্রী

আপলোড তারিখঃ 2026-07-31 ইং
সুন্দরবন এক্সপ্রেসের টিটিই-এর বিরুদ্ধে ট্রেনের যাত্রীদের ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:

কুষ্টিয়া কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিটিই-এর বিরুদ্ধে বাবা-ছেলেকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম বাদী হয়ে ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) আব্দুল্লাহ আল মামুনকে একমাত্র আসামি করে পোড়াদহ রেলওয়ে থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। এদিকে এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ করেছেন আহতদের স্বজনরা।


মামলার এজাহারে বাদী আব্দুর রহিম উল্লেখ করেন, গত শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার কোর্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে চুয়াডাঙ্গা যাওয়ার জন্য সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠার সময় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে নির্ধারিত বগিতে উঠতে না পেরে স্ত্রীকে পাশের বগিতে তুলতে যান। এসময় টিটিই আব্দুল্লাহ আল মামুন তার স্ত্রীকে ধাক্কা দিলে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মামুন স্টোররুম থেকে ধারালো ছুরি এনে তার ও তার ছেলে শফিউল আউয়াল সুমনের ওপর হামলা চালান। এতে তারা দুজন গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ যাত্রী ও স্থানীয়রা প্রায় দেড় ঘণ্টা সুন্দরবন এক্সপ্রেস আটকে রেখে বিক্ষোভ করেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।


এদিকে ট্রেন অবরোধ, ভাঙচুর, মব সৃষ্টি এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে কুষ্টিয়া মডেল থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী উপ-পরিদর্শক (এসআই) মলয় কুমার চক্রবর্তী। এতে আব্দুর রহিমের দুই ছেলে পলাশ ও শফিউল আউয়াল সুমনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।


পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- চুয়াডাঙ্গার সবুজপাড়া এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে পলাশ ও শফিউল আউয়াল সুমন এবং কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকার মামুন। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী সরকারি চাকরিজীবী আব্দুল্লাহ আল রশিদ জয় বলেন, আমার নবজাতক শিশু কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। আহত ব্যক্তিরা আমার নিকট আত্মীয় হওয়ায় দেখতে এসেছিলেন। আহতদের ট্রিটমেন্ট শেষে আমার শালক পলাশকে থানায় দেখতে যাওয়ায় ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর আহত আব্দুর রহিমকে (৬৫) মারতে উদ্যত হয় এবং ষাটোর্ধ বয়স্ক আহত ব্যক্তিকে শূয়োরের বাচ্চা বলে গালিগালাজ করেন। আমি আঘাতের ছবিগুলো দেখালে ওসি বলেন তো কি হয়েছে, মরে গিয়েছে? এরপর গুরুতর আহত সুমন সেখানে গেলে তাকে সারারাত থানায় আটকে রাখে এবং তার আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে লাঠি দিয়ে আঘাত করে এটা স্বীকার করতে বলে যে, ওনারাই টিটিইকে আগে আঘাত করেছেন, টিটিই আত্মরক্ষামূলকভাবে ছুরি মেরেছে। সারারাত তাদের আহতদের আটক করে নির্যাতন করার পর সকালে পুলিশ তাদের মারতে উদ্যত হয় এবং তাদের নাকি আহতরা গুরুতর আঘাত করেছেন এরকম ফেক হাসপাতালের ডকুমেন্টস দিয়ে মামলা দায়ের করেছেন। যেখানে আমি ঘটনাস্থলে মারামারির সময় উপস্থিত ছিলাম না। পরে আহতদের হাসপাতালে নিতে সেখানে যাই, আমাকে পলাতক আসামি উল্লেখ করে। আমি নাকি টিকিট ছাড়া ট্রনে উঠতে গেছি, ট্রেন ভাংচুর করেছি, পুলিশকে মেরেছি এমন কথা উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছে।


এদিকে এক ভিডিও বার্তায় জয় বলেন, পুলিশ আমাকে যেকোনো সময় গ্রেপ্তার করতে পারে। গ্রেপ্তার করে চরম নির্যাতর করতে পারে। সাংবাদিকে ভাইয়ের কাছে আমার একটাই আবেদন, আপনারা সত্য ঘটনা তুলে ধরবেন। যারা দোষী তারা যেন সাজা পায়। 


এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, ট্রেন অবরোধ, ভাঙচুর, মব সৃষ্টি এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে টিকিট পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)