ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। সভা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী।
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে জেলায় ইউরিয়া সারের মজুদ রয়েছে ২ হাজার ৭১৬ মেট্রিক টন, টিএসপি ৫২৭ মেট্রিক টন, ডিএপি ৬৪১ মেট্রিক টন এবং এমওপি ১ হাজার ৫৪৩ মেট্রিক টন। কৃষি মৌসুমে কৃষকদের চাহিদা পূরণে এসব সার পর্যাপ্তভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সভায় কৃষক কার্ড কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছী ইউনিয়নের ডামোশ ব্লক থেকে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ওই ব্লকে সম্ভাব্য কৃষকের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫ জন। এর মধ্যে ৪৪৮ জনের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের পীরপুর ব্লকে সম্ভাব্য কৃষকের সংখ্যা ২ হাজার ৫০০ জন। সেখানে এখন পর্যন্ত ৬০৪ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর ইউনিয়নের কলাবাড়ী ব্লকে সম্ভাব্য কৃষক ৫ হাজার ৯৫০ জনের মধ্যে ২ হাজার ২০ জনের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বালিহুদা ব্লকে সম্ভাব্য কৃষকের সংখ্যা ৪০৪ জন। কৃষকদের তথ্য সংগ্রহের সময় প্রকৃত ফসলচাষি, খামারি, মৎস্যচাষিসহ বিভিন্ন শ্রেণির কৃষকের তথ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে বলেও সভায় জানানো হয়।
সভায় আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাঁস ইউনিয়নের বিএডিসি সার ডিলার আব্দুল মজিদের মৃত্যুজনিত কারণে তাঁর স্ত্রীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বরাদ্দকৃত সার তাঁর স্ত্রীর নামে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এসময় কৃষকদের দোরগোড়ায় সার পৌঁছে দেওয়া, সার বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত কৃষকের তথ্যভান্ডার তৈরির লক্ষ্যে সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নির্ধারিত ইউনিয়নে সেলস সেন্টার না খুললে কোনো সার ডিলারকে ছাড় দেওয়া হবে না। আগামী মাসের ১ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে সেলস সেন্টার চালু না হলে ডিলারশিপ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, কৃষক কার্ড বিষয়ে ইউনিয়নের মোড়ে মোড়ে ও পাড়া-মহল্লায় ব্যাপক মাইকিং করতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। অতিরিক্ত সার প্রয়োগে মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে- এই বার্তা বারবার পৌঁছে দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘সার কার্ড ছাড়া কোনো কৃষক সার পাবেন না’- এ বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে। সার নিয়ে অনেক পাঁয়তারা চলছে। রাজনীতি আর ব্যবসাকে আলাদাভাবে দেখতে হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, যে ইউনিয়নের জন্য সার বরাদ্দ দেওয়া হবে, সেই ইউনিয়নেই ডিলারকে সার বিক্রি করতে হবে। নীতিমালা অনুযায়ী নিজ ইউনিয়নে সেলস সেন্টার না থাকলে ডিলার লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ নেই। যেসব ডিলারের এখনো নিজ ইউনিয়নে সেলস সেন্টার নেই, তাদের অবিলম্বে তা চালু করতে হবে। তিনি জানান, আগামী মাসের ১ তারিখের মধ্যে সেলস সেন্টার চালু না হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২ তারিখে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন নেওয়া হবে এবং ৩ তারিখের সভায় যারা নির্দেশনা মানবেন না, তাদের ডিলারশিপ বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে নতুন মাসের সার বরাদ্দও বন্ধ থাকবে।
লুৎফুন নাহার বলেন, ‘আমরা কৃষকদের দোরগোড়ায় সার পৌঁছে দিতে চাই। কোনো কৃষককে হয়রানি করা যাবে না। কৃষকের সুবিধা অনুযায়ী ডিলারদের সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সার নিয়ে কোনো লুকোচুরি চলবে না।’ তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নের প্রকৃত আবাদি জমির পরিমাণ বিবেচনায় সার বরাদ্দ নির্ধারণ করতে হবে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সারের বণ্টন করা হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত কৃষকের তথ্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার উত্তোলন বা কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ না থাকে।
জেলা প্রশাসক বলেন, কোনো কৃষকের জমির প্রয়োজন যদি ১৫ কেজি সার হয়, তাহলে তিনি ৫০ কেজি সার দাবি করলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আবার কেউ কেউ এ বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি বা কৃষকদের উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এসব অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে। এ জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত সার ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জোরদার করা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ, কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামসহ কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
