দামুড়হুদার কাদিপুরে মাটি-বালু উত্তোলনে ফসলি জমির ভাঙন

রাস্তা বিলীন, ইউএনও বরাবর আবেদন

আপলোড তারিখঃ 2026-07-17 ইং
দামুড়হুদার কাদিপুরে মাটি-বালু উত্তোলনে ফসলি জমির ভাঙন ছবির ক্যাপশন:

দামুড়হুদা উপজেলার কাদিপুর বেলের মাঠে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের ফলে তিন ফসলি জমি ভাঙন দেখা দিয়েছে। টানা ভারী বর্ষণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকারি রাস্তার অংশটুকু ধসে বিলীন হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী প্রতিকার চেয়ে গ্রামবাসীর পক্ষে রাজ্জাক আলী দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিন (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কাদিপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকসহ গ্রামবাসীর উদ্যোগে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়।


আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিগত ২০২০-২০২১ সালে তৎকালীন সময়ে কাদিপুর গ্রামের মৃত নাসির উদ্দিনের ছেলে শাহাজামাল মেম্বার ও কাদিপুর গ্রামের আইয়ুব আলী জয়রামপুর স্টেশনপাড়ার সিদ্দিকীর ছেলে কাইয়ুমের কাছে জমি বিক্রি করে। কাইয়ুম জমি কেনার পর থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন করে গভীর গর্তের সৃষ্টি করে। এর ফলে একটু বৃষ্টি হলেই পাশের ফসলের জমি ভেঙে গর্তের ভেতর চলে যাচ্ছে। টানা ভারী বর্ষণে রাস্তার সবটুকু অংশ ধসে গেছে এবং আশপাশের অনেক কৃষিজমিও বিলীন হতে শুরু করেছে। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।


বিলীন হচ্ছে চাষের জমি। নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই জমির মালিকদের। জমির মালিকরা ও গ্রামবাসীর দাবি, এখনই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বড় ধরনের ক্ষতি সাধন হবে জমির মালিকদের। তাই ফসলি জমি বাঁচাতে এখনই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন ইউএনওÑএমনটাই চাওয়া এলাকাবাসীর।


আবেদনে আরও বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত জমিগুলো লোকনাথপুর ৭৩ নম্বর মৌজার অন্তর্ভুক্ত। এসব জমির নকশাসহ (ম্যাপ) আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। গ্রামবাসীর দাবি, সরকারি রাস্তা দ্রুত পুনর্নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত জমির ক্ষতিপূরণ প্রদান অথবা পূর্বের ন্যায় মাটি ভরাট করে জমিগুলো পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।


স্থানীয়দের অভিযোগ, কাদিপুর বেলের মাঠ থেকে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা কেটে দীর্ঘদিন ধরে মাটি ও বালু উত্তোলনের ফলে এখন পুরো এলাকায় ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি গুচ্ছগ্রামে যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি ধসে যাওয়ায় সেখানে বসবাসকারী পরিবারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভ্যান ও রিকশাচালকরা যানবাহন বের করতে না পারায় তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।


ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মিনাজ উদ্দিন বলেন, "আমার জমির পাশ থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন করা হয়েছে। অনেকবার বাধা দিয়েও কাজ বন্ধ করা যায়নি। এখন আমি বাঁধ দিয়েও জমি রক্ষা করতে পারছি না, একের পর এক ধসে যাচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে জমি রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।"


কাদিপুর গুচ্ছগ্রামের নারী বাসিন্দারা বলেন, অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলনের কারণে বর্ষায় ভেঙে গিয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একমাত্র চলাচলের রাস্তা ধসে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছি আমরা। ভ্যানগাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন বের করতে না পারায় পরিবার জীবিকা হারানোর শঙ্কায় রয়েছি। আমরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।


এ বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি, যাতে প্রশাসন সরেজমিনে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং সরকারি রাস্তা পুনর্নির্মাণসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।


এদিকে কাইয়ুম বলেন, আমি কাদিপুর গ্রামের আয়ুব আলী ও শাহাজামাল মেম্বারের নিকট থেকে জমি ক্রয় করে মাটি ও বালি বিক্রয় করি। কিন্তু দুঃখের বিষয় আয়ুব এবং শাহাজামাল মেম্বার আজ পর্যন্ত সেই জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়নি। পরবর্তীতে তারা আবার রিপনের কাছে বালি বিক্রয় করে। এতে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়। ওই জমি আমার নামে রেজিস্ট্রি করে দিলে আমি ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি আছি। এ ঘটনায় দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন বলেন, লিখিত পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)