ছবির ক্যাপশন:
দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল ওয়াহেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।
গতকাল বুধবার বিকেল ৫টার দিকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফের নেতৃত্বে দামুড়হুদা উপজেলার বিএনপির কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বাসস্ট্যান্ডে এসে শেষ হয়। পরে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন, জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সরদার আলী হোসেন, দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি খাজা আবুল হাসনাত, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খোকন, সাধারণ সম্পাদক শাজাহান আলী ও জেলা জাসসের সাধারণ সেলিম উদ্দিন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। মসজিদকে কোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বা বিভেদ সৃষ্টির জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। আপনাদের সভা সমাবেশ করতে কোনো বাধা নেই। আপনাদের কার্যালয়ে, খোলা মাঠে সমাবেশ করুন কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ করলে সেটা জনগণ ভালো চোখে দেখবে না। কোনো বিতর্কিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে এবং যারা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দামুড়হুদার মানুষ শান্তি ও সম্প্রীতি চায়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে তা যেন সংঘাত বা সহিংসতায় রূপ যেন না নেয়। গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমেই জনগণের বক্তব্য তুলে ধরা হবে।
দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা ট্রেনিং করাটাই বিতর্কিত। এখানে কোনো দুনিয়াবী আলোচনা করা যাবে না। এতেই তারা থেমে নেই দামুড়হুদা বাসিকে ভীতি সাব্যস্ত করার জন্য লাঠি সোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিছিল করেছেন এবং দামুড়হুদাকে গুড়িয়ে দিবো এই ধরনের উগ্র বাদ বক্তব্য দেওয়ায় আমরা তীব্র ও নিন্দা জানাই সেই সাথে এই ধরনের বক্তব্যের জন্য প্রশাসন নজরদারি করার আহ্বান জানাই।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সরদার আলী হোসেন, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হাসান খান খোকন, দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি খাজা আবুল হাসনাতসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশিদ ঝন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মন্টু মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর আবুল হাশেম, হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক নাফিজ আক্তার, জুড়ানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস আলী, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম টুটুল, নাটুদা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম খান, নতিপোতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শফি মাস্টার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী, দামুড়হুদা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক একরামুল হোসেন, সদস্যসচিব জাকির হোসেন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আরিফ, দামুড়হুদা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবজালুর রহমান সবুজসহ উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মিছিল ও সমাবেশ পরিচালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু। উল্লেখ্য, গত শনিবার (১১ জুলাই) দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তৃণমূল পর্যায়ের শতাধিক নারীদের নিয়ে কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম আয়োজন করা হয়। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে আপত্তি সৃষ্টি হয়। বিএনপির অভিযোগ, ধর্মীয় কার্যক্রমের আড়ালে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরদিন রোববার (১২ জুলাই) উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, বিক্ষোভ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন জামায়াত ও বিএনপি কর্মীরা আহত হন বলে জানা যায়।
