চুয়াডাঙ্গায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিবের নামে দুস্থভাতা

একই পরিবারের একাধিক সদস্য ও প্রভাবশালীদের নাম থাকায় ক্ষুব্ধ ক্রীড়াবিদরা

আপলোড তারিখঃ 2026-07-16 ইং
চুয়াডাঙ্গায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিবের নামে দুস্থভাতা ছবির ক্যাপশন:

চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ক্রীড়া ভাতা বণ্টন নিয়ে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অস্বচ্ছল ও দুস্থ ক্রীড়াবিদদের সহায়তার উদ্দেশ্যে গঠিত এই ভাতার ২০২৬ সালের চূড়ান্ত তালিকায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব, একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি এবং বছরের পর বছর ধরে একই সুবিধাভোগীদের নাম থাকায় স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।


আইনগত ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ভাতা বণ্টনের ক্ষেত্রে যে নীতিমালা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, চুয়াডাঙ্গার বর্তমান তালিকায় তার চরম লঙ্ঘন ঘটেছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের নীতিমালা অনুযায়ী, এই ভাতা পাওয়ার মূল শর্ত হলো আবেদনকারীকে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ও প্রকৃত ক্রীড়াসেবী হতে হবে। অথচ বিগত ১১ জুন প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে বছরে ৩০ হাজার টাকার এই ভাতাপ্রাপ্তদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান সদস্যসচিব বিপুল হাসান হ্যাজি। এছাড়াও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর পাশাপাশি একই পরিবারের একাধিক সদস্য বছরের পর বছর ধরে এই ভাতার সুবিধা ভোগ করে আসছেন।


স্থানীয় ক্রীড়াবিদরা এই তালিকাকে পক্ষপাতদুষ্ট ও বেআইনি আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ক্রীড়াবিদ বলেন, জেলায় অনেক অসহায় দুস্থ ক্রীড়াবিদ রয়েছেন। অথচ, ক্রীড়াসেবী ভাতার ক্ষেত্রে বার বার আমরা পক্ষপাত দেখি। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছলদের দেবার কথা থাকলেও দেয়া হচ্ছে স্বচ্ছলদের। এটা অন্যায়।


আরেকজন ক্রীড়াবিদ প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ক্রীড়াসেবী ভাতায় যদি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিবের নাম থাকে, তাহলে সেটি কীভাবে বাছাই করা হয়েছে তা তো বোঝায় যাচ্ছে। যারা প্রভাবশালী তাদের নামই আমরা দেখছি। কাকে কি বলবেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে যদি সিলেক্ট করা হয়ে থাকে, তাহলে তারা কি করেছে?


বিতর্কিত এই তালিকা প্রণয়নের আইনি ও প্রশাসনিক দায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি ও দায় এড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বাছাই প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জেলা ক্রীড়া অফিসার ও বাছাই কমিটির সদস্যসচিব সেলিম রেজা বলেন, কমিটির সদস্যরা মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে আপনি কমিটির সভাপতির সাথে যোগাযোগ করেন।


তালিকায় নিজের নাম থাকা প্রসঙ্গে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব বিপুল হাসান হ্যাজি বলেন, 'যখন আবেদনটা করেছিলাম, তখন তো জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব হইনি। পরে আমি ডিসি মহোদয়কে বললাম যেহেতু আমরা করে ফেলেছি, আমারটি বাদ দিয়ে দিয়েন। এই সিরিয়ালটা ডিসি মহোদয় পাঠায়। যারা পায়নি, কিন্তু যোগ্য, তাদের জন্য আমরা ক্রীড়া সংস্থার প্যাডে লিখে সহযোগিতা চাইব।'


এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও বাছাই কমিটির সভাপতি লুৎফুন নাহার বলেন, 'আপনি লিখিত দেন, আমি খতিয়ে দেখবো। আমার মায়ের মৃত্যুর কারণে আমি কয়েকদিন ছুটিতে ছিলাম। এই সময়ে কিছু হতে পারে। আমি না জেনে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না।'

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)