ছবির ক্যাপশন:
কৃষকের দোরগোড়ায় রাসায়নিক সার সরবরাহ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় সার ডিলারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কৃষ্ণ রায়। পরে উন্মুক্ত আলোচনায় সার ডিলার ও কৃষকরা সার সরবরাহ, বণ্টন ব্যবস্থা ও বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এসব সমস্যা সমাধানে করণীয় বিষয়ে উপস্থিত কর্মকর্তারা বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। এসময় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় সারের বরাদ্দে কোনো ঘাটতি নেই। প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার সংগ্রহ করায় কিছু সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে সার কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। কার্ড ছাড়া কেউ সার পাবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকের জমির পরিমাণ অনুযায়ী সার দেওয়া হবে এবং কোন কৃষক কখন কতটুকু সার নিয়েছেন, তার সব তথ্য কার্ডে সংরক্ষণ করা হবে।’
সার ডিলারদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, যে ইউনিয়নে ডিলারশিপ নেওয়া হয়েছে, সেখানেই ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। সার কার্ড বিষয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। তিনি সাত দিনের মধ্যে সার কার্ড বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সার নিয়ে কোনো ধরনের রাজনীতি করা যাবে না। নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘অপপ্রচারের কারণে অনেক সময় ডিলারদের দোকানে অযথা ভিড় তৈরি হয়। সার সংকটের গুজবে প্রয়োজন না থাকলেও অনেকে অতিরিক্ত সার সংগ্রহ করেন, এতে প্রকৃত কৃষকরা সমস্যায় পড়েন।’ তিনি বলেন, ‘সঠিকভাবে সার বিতরণ নিশ্চিত করতে কৃষি কার্ড ব্যবস্থা কার্যকর করা যেতে পারে। কার্ড অনুযায়ী প্রতিটি কৃষক তার প্রয়োজনীয় সার পাবেন। জেলায় যাতে কোনো ধরনের সার সংকট সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, সার বিতরণ ব্যবস্থায় ডিলার, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। এই তিন পক্ষের সমন্বয় ঠিক থাকলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র, কুষ্টিয়া বিএডিসির জয়েন্ট ডিরেক্টর আবু ওসমান, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপনসহ সার ডিলার, কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
