ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গার কেদারনগরে মাদক ব্যবসায়ী আব্দুল হালিমের মুচলেকা দিয়ে নতুন জীবনে ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি কেদারনগর গ্রামের সোবহান ফারাজির ছেলে। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজ বাড়ির উঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, তরুণ সমাজ ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত গ্রাম্য সালিশ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এ অঙ্গীকার করেন।
স্থানীয়দের দাবি, আব্দুল হালিম দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটের অবৈধ কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে তিনি কারাগারেও ছিলেন। সম্প্রতি এলাকায় মাদক নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় তাকে সামাজিকভাবে সংশোধনের উদ্যোগ নেন স্থানীয়রা।
সবার উপস্থিতিতে দেওয়া লিখিত মুচলেকায় আব্দুল হালিম অঙ্গীকার করেন, ভবিষ্যতে তিনি কোনো ধরনের মাদক সেবন, ক্রয়-বিক্রয়, বহন বা মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়াবেননা। পরিবার ও সমাজের সহযোগিতায় সৎভাবে জীবনযাপন করে নতুনভাবে জীবন শুরু করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
আব্দুল হালিম বলেন, অতীতের ভুল বুঝতে পেরেছি। এখন থেকে সৎ পথে চলতে চাই। ভবিষ্যতে আর কখনো মাদকের সঙ্গে জড়াব না।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে শুধু আইনগত ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়, পরিবার, সমাজ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগও জরুরি। ভুল পথে চলে যাওয়া মানুষকে সংশোধনের সুযোগ দিলে অনেকেই সমাজের মূল ধারায় ফিরে আসতে পারেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, আব্দুল হালিম তার দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষা করবেন এবং মাদকমুক্ত জীবন গড়ে তুলবেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আব্দুর রাকিব জীবন, কেদারনগর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিরুল ইসলাম, কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক উজির আলী, আনারুল ইসলাম, সাহেব আলী, কালাম, সালমান, সাইফুল, ছাত্রদল নেতা হৃদয় আহাম্মেদ, আমিরুল, ডালিম, সাহেব, সবুজ, কদম, আলমসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের সহযোগিতায় এবং বেলগাছী ছাত্রদলের নেতা আব্দুর রাকিব জীবনের উদ্যোগে এই গ্রাম্য সালিশ ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
