ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের সরোজগঞ্জ-খাসকররা সালামত বাজারসংলগ্ন চারাতলা মাঠে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল একটি অটোগাড়ি ও একটি পাখি ভ্যান ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এছাড়া চালক ও যাত্রীদের মারধর করে পাটখেতে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখা হয়। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শম্ভুনগর গ্রামের শফিউর মণ্ডলের ছেলে রুহুল আমিন তার অটোগাড়ি নিয়ে এবং একই গ্রামের আলেক হোসেনের ছেলে রাহুল ইসলাম (২১) তার মোটা চাকার পাখি ভ্যানে আরও দুই যাত্রীকে নিয়ে চারাতলা মাঠ এলাকা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা ৬ থেকে ৭ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল তাদের গতিরোধ করে। ডাকাতরা রুহুল আমিন, রাহুল ইসলাম এবং পাখি ভ্যানে থাকা অপর দুই ব্যক্তিকে বেধড়ক মারধর করে পাশের একটি পাটক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে পাটের আঁশ দিয়ে তাদের হাত-পা বেঁধে রেখে একটি অটোগাড়ি ও একটি মোটা চাকার পাখি ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, যানবাহন লুটের পাশাপাশি নগদ টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। রুহুল আমিনের কাছে থাকা ২ হাজার টাকা, রাহুল ইসলামের কাছে থাকা ৪০০ টাকা এবং রাহুলের সঙ্গে থাকা দুই বন্ধুর কাছে থাকা ২ হাজার টাকা ডাকাতরা নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে নগদ ৪ হাজার ৪০০ টাকা লুটের অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী রুহুল আমিন বলেন, ‘৬-৭ জন সংঘবদ্ধভাবে আমাদের গাড়ির গতিরোধ করে। এরপর আমাদের মারধর করে পাটক্ষেতে নিয়ে গিয়ে পাটের আঁশ দিয়ে হাত-পা বেঁধে রাখে। পরে তারা আমাদের অটোগাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। অনেক কষ্টে নিজেদের মুক্ত হয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় বিষয়টি জানাই।’
অপর ভুক্তভোগী রাহুল ইসলাম বলেন, ‘আমি হাকিমপুর এলাকায় যাত্রী পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। চারাতলা মাঠে পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত আমাদের আটকায়। পরে মারধর করে পাটক্ষেতে নিয়ে বেঁধে রেখে আমার পাখি ভ্যানটি নিয়ে যায়। সঙ্গে থাকা টাকাও নিয়ে নেয়।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, চারাতলা মাঠ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাতের বেলায় পর্যাপ্ত পুলিশ টহলের অভাব রয়েছে। এ সুযোগে ছিনতাই, ডাকাতি ও বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা বাড়ছে। তারা এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার, লুট হওয়া যানবাহন দ্রুত উদ্ধার এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী আরও জানান, লুট হওয়া অটোগাড়ি ও পাখি ভ্যানই ছিল দুই পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। যানবাহন দুটি হারিয়ে পরিবার দুটি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট থানার কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
